
আমজাদ হোসেন মিঠু
জেলা প্রতিনিধি ঢাকা |
২৬ এপ্রিল, ২০২৬
জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে একটি বড় প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় এনেছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে জনসাধারণের সাথে প্রতারণার দায়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ১০ সদস্যকে
গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)এবং ডীপ-ফেইক (Deep-fake)প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছিল। তারা মিজানুর রহমান আজহারীর পুরনো ভিডিও ফুটেজ পরিবর্তন করে এবং তার কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন তৈরি করত। সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত হয়ে প্রতারিত হচ্ছিলেন।
গ্রেফতারের সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ প্রতারণার সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড।
প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও কম্পিউটার। মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি সংবলিত ভুয়া বিজ্ঞাপনের লেআউট।
অনুমোদনহীন বিভিন্ন প্রকার তথাকথিত যৌন উত্তেজক ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট।
পল্টন থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল প্রাথমিক পদক্ষেপ। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন,
"যারা ডীপ-ফেইক বা এআই ব্যবহার করে কোনো স্বনামধন্য ব্যক্তির ছবি ও কণ্ঠ নকল করে জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং জনস্বার্থ রক্ষায় পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বিজ্ঞাপন দেখে প্রলুব্ধ হওয়ার আগে তার সত্যতা যাচাই করার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা সেলিব্রেটি যখন কোনো ওষুধের কথা বলেন, তখন তা ডীপ-ফেইক হতে পারে—এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
Daily Bangladesh Patrika