
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় পানিভর্তি বালতিতে ডুবে রাফসান নামে ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত রাফসান লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. এনাম মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাড়িতে গোসলের জন্য একটি বালতিতে পানি রাখা ছিল। পরিবারের লোকজনের অগোচরে কোনো এক সময় রাফসান ওই বালতির কাছে চলে যায়। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে পানিভর্তি বালতির মধ্যে পড়ে যায়।
কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পানিভর্তি বালতির মধ্যে তাকে দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাফসানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। মাত্র ১৮ মাসের শিশুকে হারিয়ে পরিবার যেন মুহূর্তেই শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে পানির পাত্র বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়িতে থাকা বালতি, গামলা, ড্রাম কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি থাকলে শিশুরা খেলতে খেলতে সেগুলোর কাছে চলে যেতে পারে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা অল্প পানিতেও ডুবে যেতে পারে এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই ছোট শিশুদের পানির কাছাকাছি কখনোই একা রাখা উচিত নয়। গোসলের জন্য বালতিতে পানি রাখলেও কাজ শেষে তা খালি করে রাখা বা এমন স্থানে রাখা জরুরি, যেখানে শিশুরা সহজে পৌঁছাতে না পারে।
শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে হাঁটতে শেখা শিশুদের চলাচলের জায়গায় পানিভর্তি কোনো পাত্র রাখা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, রাফসানের ঘটনাটি তারই একটি করুণ উদাহরণ।
একটি পরিবারের আনন্দের কেন্দ্র হয়ে ওঠা শিশুটি মুহূর্তের দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে যাওয়ায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে বিষাদের আবহ। রাফসানের অকালমৃত্যু স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও শোকাহত করেছে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজর রাখা, পানিভর্তি পাত্র নিরাপদ স্থানে রাখা এবং বাড়ির আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত নিরাপদ করা জরুরি। সামান্য সচেতনতা হয়তো রাফসানের মতো আরও অনেক শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারে।
Daily Bangladesh Patrika