
মজিদ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লি থানার বড়গাঁও ইউনিয়নে রেমি আক্তার (২৬) নামে এক উচ্চশিক্ষিত তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট—তা নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত রেমি আক্তার কদমরসুল এলাকার মো. ফজলুল করিমের মেয়ে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজ বাড়িতে রেমি আক্তারকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই অসংলগ্ন বক্তব্য দেখা গেছে। স্বজনদের এক পক্ষ দাবি করছে রেমি অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন, অন্যদিকে অন্য পক্ষ বলছে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার ও স্বজনদের এমন পরস্পরবিরোধী তথ্যে পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। একজন উচ্চশিক্ষিত তরুণীর এভাবে হঠাৎ মৃত্যুতে স্থানীয়রা গভীর শোক ও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতের শরীরে কিছু বিষাদময় লক্ষণ ও স্বজনদের তথ্যে অসংগতি থাকায় বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হয়নি। ফলে প্রাথমিক সুরতহাল নিশ্চিতকরণ ও সঠিক কারণ নির্ণয়ে প্রশাসনিক নির্দেশে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তরুণীর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে।
Daily Bangladesh Patrika