
আমজাদ হোসেন মিঠু ,
বিভাগীয় প্রধান ঢাকা।
যেখানে রক্তক্ষরণে কোনো রোগীর প্রাণ যায় যায় অবস্থা, সেখানেই রক্তের ব্যাগ হাতে ছুটে যেতেন তিনি। দিন নেই, রাত নেই—অসহায় মানুষের আহ্বানে সাড়া দেওয়াই ছিল যাঁর প্রতিদিনের কাজ। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে, সময়ের প্রয়োজনে যিনি রক্ত দিতেন, শেষ পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই অকালে ঝরে গেল সেই রক্তযোদ্ধা ফারদিনের প্রাণ।
আজ সকালে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শ্যামলী পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাসের চাপায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ফারদিন (২০) মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের হরপাড়া গ্রামের মিলন মিয়ার ছেলে। তিনি সেচ্ছাসেবক সংগঠন ‘বিক্রমপুর রক্তযোদ্ধা’ গ্রুপের একজন সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ সদস্য ছিলেন।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা:
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বেপরোয়া গতির বাস ফারদিনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
সংবাদ পেয়ে স্থানীয়রা ও তাঁর সহযোদ্ধারা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে পথিমধ্যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকায় ঢাকা পৌঁছানোর পূর্বেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শোকের ছায়া এলাকায়:
ফারদিনের এমন মর্মান্তিক আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, নিজ গ্রাম হরপাড়া এবং রক্তদানকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মধ্যে গভীর শোক ও মাতমের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের বাবা মিলন মিয়া ও স্বজনেরা আহাজারি করে বলছেন, "যে ছেলে মানুষের জীবন বাঁচাতে নিজের রক্ত ছিটিয়ে দিত, আজ রাস্তায় রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু দেখতে হলো!"
‘বিক্রমপুর রক্তযোদ্ধা’ গ্রুপের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করে ঘাতক শ্যামলী পরিবহনের বেপরোয়া বাস ও তার চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘাতক বাসটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Daily Bangladesh Patrika