
অনুসন্ধানী রিপোর্ট মোঃ কামাল উদ্দিন:
ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ধরনও দিন দিন আরও জটিল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টিকটক এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এক শ্রেণির প্রতারক নিজেদের কখনো থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), কখনো জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কর্মকর্তা, আবার কখনো উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত করার অভিযোগ উঠছে।
এমনই একটি ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে সাংবাদিক মোঃ কামাল উদ্দিন হাতে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি সাংবাদিক মোঃ কামাল উদ্দিনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এক ব্যক্তি প্রথমে নিজেকে চট্টগ্রাম জেলা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পরিচয় দেন। পরে আবার নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করেন। তিনি বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাংবাদিক মোঃ কামাল উদ্দিনের অনুসন্ধানী টিম বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে যাচাই-বাছাই শুরু করলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুলিশের কোনো সদস্য নন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার দক্ষিণ তালবাড়িয়া এলাকার লম্বা হোসেন সওদাগর বাড়ির মৃত আবু জাফরের ছেলে মো. আজিম হোসেন (ইমন)।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে আসে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে নিজেকে কখনো থানার ওসি, কখনো জেলা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার চেষ্টা করে আসছেন। এতে বহু মানুষ হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ১ জুলাই মধ্যরাতে সাংবাদিক মো. কামাল উদ্দিনের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ওই ব্যক্তি নিজেকে চট্টগ্রাম জেলা ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বার্তা পাঠান। পরদিন রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুনরায় যোগাযোগ করে নিজেকে নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মন্তব্য এবং মামলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে তিনি কয়েকটি ভিজিটিং কার্ড ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজের লিংক পাঠান। এসব তথ্য বিশ্লেষণ এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিক মো. কামাল উদ্দিন নিশ্চিত হন যে, পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে যোগাযোগকারী ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নন; বরং তিনি নিজেকে ভুয়া পরিচয়ে উপস্থাপন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, মো. আজিম হোসেন (ইমন)-এর বিরুদ্ধে অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, মিরসরাই থানার মামলা নং-১০ (১৪/০৮/২০২০), জি.আর. মামলা নং-১৪৪/২০, চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের মামলা নং-৪২৩/২০২১ এবং কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৫৫(১)/২০২১, জি.আর. নং-৭৭১/২০২১-এর তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তবে এসব মামলার বর্তমান বিচারিক অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালতের সর্বশেষ নথি যাচাই করা বাকি রয়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মো. কামাল উদ্দিন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধে আইন আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা জরুরি।
ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের এটি প্রথম পর্ব। পরবর্তী পর্বগুলোতে অভিযুক্তের কথিত প্রতারণার কৌশল, ব্যবহৃত নম্বর, ডিজিটাল আলামত, সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং অনুসন্ধানে প্রাপ্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হবে।
Daily Bangladesh Patrika