
সৌদি আরব, মাল্টা, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে শতাধিক যুবককে প্রথমে নেওয়া হয় ঢাকা। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন কারোরই হয়নি ভিসা। পরে ফিরে আসেন বাড়িতে। সুনামগঞ্জ জেলার- দোয়ারাবাজার উপজেলার, দিরাই উপজেলার, তা-ছাড়া সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলাসহ ৮-১০টি গ্রামের শতাধিক যুবকের কাছ থেকে এমন অভিনব প্রতারণা করে ১ কোটি টাকার বেশি নিয়ে উধাও প্রতারক কালো মানিক ।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করার পাশাপাশি বারবার প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও টাকা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ উঠেছে, একাধিক মামলা হলেও অদৃশ্য কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে অভিযুক্ত মানিক। যদিও পুলিশ বলছে, প্রতারককে ধরতে অভিযান চলছে।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই পৌরসভার ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাখন দাস তার ছেলে, টনিক দাসকে বিদেশ পাঠানোর জন্য দালাল মানিক ওরফে কালা মানিককে ৫ লাখ টাকা দেন।একইভাবে নোয়াগাও গ্রামের জনিক দাস ও তুফায়েল আহমেদ ৫-৭ লাখ করে টাকা দেন মানিক'কে । দুই মাসের মধ্যে বিদেশে নেওয়ার কথা থাকলেও ৬ মাসে কেউই যেতে পারেননি বিদেশে। এতে তাদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা।
তাদের মতো সিলেট, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়
৩০-৩৫টি গ্রামের শতাধিক যুবককে সৌদী, মাল্টা, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে সাত লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা করে নেয় অভিযুক্ত মানিক। ভিসা হয়েছে বলে কয়েক দফা এসব যুবককে নেওয়া হয় ঢাকা-ভারতে । পরে যুবকরা বুঝতে পারেন তারা প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গবাদিপশু বিক্রি, জমি বন্ধকসহ সুদে এনে লাখ লাখ টাকা তুলে দেন মানিকের হাতে। বিশ্বাস অর্জন করতে অসহায় এসব যুবককে বিভিন্ন ব্যাংকের ব্ল্যাঙ্ক চেক দেয় মানিক। অথচ তার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই নেই টাকা। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা করে শুরু করে সে। একপর্যায়ে প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা এ প্রতারক। পরে আদালত ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী- তুফায়েল আহমেদ বলেন, কয়েকটি গ্রাম থেকে এভাবে কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা বড়মাপের প্রতারক মানিক। অথচ সে এখনো গ্রেফতার হচ্ছে না। এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা। অসহায় এসব গরিব মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার সব ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মানিকের গ্রেফতার দাবি এ ভুক্তভোগীর।
সিলেট সুনামগঞ্জসহ ভুক্তভোগীরা জানান, বিদেশে নেওয়ার কথা বলে অসহায় মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে কালো মানিক।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সে। একাধিক মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে ধরতে চলছে অভিযান। শিগগিরই সে আইনের হাতে ধরা পড়বে। এদিকে ঘটনা জানতে অভিযুক্ত মানিক ওরফে কালা মানিকের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। আর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Daily Bangladesh Patrika