
রফিকুল ইসলাম রফিক কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
বৃষ্টির পরপরই আকাশে সূর্যের আলো ফুটে উঠলে দেখা যায় এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য—রংধনু। ধনুকের মতো বাঁকা সাতটি রঙের এই আলোকচ্ছটা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ঘটনাও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রংধনু মূলত সূর্যের আলো এবং বৃষ্টির পানির ফোঁটার যৌথ ক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়। সূর্যালোক যখন বৃষ্টির ফোঁটার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে, তখন তা প্রতিসরণ (refraction), প্রতিফলন (reflection) এবং বিচ্ছুরণের (dispersion) মাধ্যমে বিভিন্ন রঙে বিভক্ত হয়ে যায়।
এই প্রক্রিয়ার ফলে আকাশে লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, জ্যামুনি ও বেগুনি—এই সাতটি রঙের সমন্বয়ে তৈরি হয় রংধনু।
রংধনু সাধারণত সূর্যের বিপরীত দিকে দেখা যায়। অর্থাৎ সকালে এটি পশ্চিম আকাশে এবং বিকেলে পূর্ব আকাশে বেশি দেখা যায়।
গ্রামবাংলায় রংধনু নিয়ে নানা লোকজ ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, রংধনু উঠলে বৃষ্টি থেমে যাবে এবং রোদ উঠবে। বাস্তবেও দেখা যায়, রংধনু সাধারণত তখনই দেখা যায় যখন বৃষ্টি শেষের দিকে এবং সূর্য বের হতে শুরু করে—তাই এই বিশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবের মিল রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলেন, রংধনু আসলে একটি অপটিক্যাল ইল্যুশন (আলোক বিভ্রম)—এটি কোনো বাস্তব বস্তু নয়, বরং আলো ও জলকণার পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে আমাদের চোখে তৈরি হওয়া দৃশ্য।
প্রতিটি জলকণা ছোট প্রিজমের মতো কাজ করে এবং সূর্যের সাদা আলোকে সাতটি ভিন্ন রঙে ভেঙে দেয়—এই কারণেই আমরা রংধনু দেখি।
Daily Bangladesh Patrika