
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব শহরের একটি আবাসিক হোটেল ‘এশিয়া’-তে আনোয়ার হোসেন নামে ওই ব্যক্তি কক্ষ ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কক্ষের দরজা না খোলায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে একাধিকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হোটেল কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় আনোয়ার হোসেনের মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হোটেলের নিবন্ধন খাতা, সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তি কী কারণে হোটেলে অবস্থান করছিলেন এবং তার মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহতের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় ভৈরব মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো রহস্য বা অপরাধমূলক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন ও কৌতূহল দেখা দিলেও পুলিশ গুজব বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার না করে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে।
Daily Bangladesh Patrika