
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া একটি বিলুপ্তপ্রায় ঈগল পাখিকে চিকিৎসা শেষে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে বন বিভাগের করিমগঞ্জ শাখার প্রতিনিধির কাছে পাখিটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট রাতে কুলিয়ারচর পৌরসভার তাতারকান্দি গ্রামের একটি বাড়ির আঙিনায় আহত অবস্থায় ঈগলটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাড়ির বাসিন্দা ইসরাত জাহান প্রেমা পাখিটিকে উদ্ধার করে নিজের কাছে রাখেন এবং প্রাথমিকভাবে পরিচর্যা শুরু করেন। পরে তিনি পাখিটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হলে আহত পাখিটিকে দ্রুত উদ্ধার, চিকিৎসা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ১৬ আগস্ট রাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের একটি দল পাখিটিকে উদ্ধার করে। ভেটেরিনারি সার্জন ডা. বৃষ্টি পণ্ডিতের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আহত ঈগলটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রাথমিক পরিচর্যা দেওয়া হয়।
চিকিৎসার পর পাখিটির অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে সেটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বন বিভাগের করিমগঞ্জ শাখার প্রতিনিধির কাছে ঈগলটি তুলে দেওয়া হয়।
কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসিন খন্দকার বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। আহত অবস্থায় পাখিটি পাওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়া এবং পরে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে সেটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ভেটেরিনারি সার্জন ডা. বৃষ্টি পণ্ডিত জানান, উদ্ধার করার সময় ঈগলটি আহত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর সেটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে পাখিটির পরবর্তী পরিচর্যা করা হবে।
বন বিভাগের করিমগঞ্জ শাখার অফিস সহায়ক সুমন চৌধুরী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পাখিটির পরিচর্যা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে। পাখিটি পুরোপুরি সুস্থ হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আহত পাখিটিকে ফেলে না রেখে উদ্ধার করে প্রশাসনকে জানানোর উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তাঁদের মতে, মানুষের সচেতনতা ও সরকারি সংস্থাগুলোর দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের বন্যপ্রাণী রক্ষা করা সম্ভব।
একটি বাড়ির আঙিনায় অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা ঈগলটি এখন বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে। সংশ্লিষ্টদের আশা, যথাযথ পরিচর্যায় পাখিটি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও তার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে যেতে পারবে।
Daily Bangladesh Patrika