
আলমগীর শরীফ, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য যোগদানকৃত (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল্লাহ খান এর বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও অশোভন মন্তব্য'র অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা'র (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উক্ত বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্রীদের কয়েকজন অভিভাবক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ ইং সোমবার বেলা ১১ ঘটিকার দিকে দশম শ্রেণির ক্লাসে ওই শিক্ষক ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অশ্লীল, অপ্রাসঙ্গিক ও সম্মানহানিকর কথাবার্তা বলা সহ নিজের সম্পদের হিসাব দিয়ে নিজেকে গর্ব করে বলার অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের দাবি, তার বক্তব্য সিসি টিভি ফুটেজে ধারণ করা আছে এবং প্রতিটি ক্লাসেই তিনি একই ধরনের আচরণ করেন প্রধান শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে নিজের পারিবারিক সম্পদের বিবরণ এবং ছাত্রীদের চারিত্রিক বিষয়ে আলোচনা করেন, যা একজন শিক্ষকের জন্য অশোভন এবং আদর্শ বহির্ভূত।
অভিযোগপত্রে অভিভাবকরা উল্লেখ করেন, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে এ ধরনের আচরণে শিক্ষার্থীরা ভীত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং ওই শিক্ষককে দ্রুত অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রে দশম শ্রেণির অন্তত ১০ জন ছাত্রীর অভিভাবকদের স্বাক্ষর রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্লাসে এসে স্যারে তার সম্পদের বড়াই করে। আমাদের'কে সে বলে যে তার একটি রয়েল এন্ড ফিল্ড বাইক আছে, আই ফোন আছে, স্যামসাং মোবাইল আছে, গাড়ি আছে, বরিশালে ফ্লাট আছে। যে কাজ গুলো আমরা করিনা বা জানিনা, অন্য কোনো স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা করছে সেটা নিয়ে তিনি ক্লাসে খোলামেলা অশ্লীল আলোচনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশালের উপ-পরিচালক, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী অভিভাবকরা।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল্লাহ খান জানান, আমি এখানে যোগাদান করার পর থেকে নবম ও দশম শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছি। এখানে আগে গাইড দিয়ে প্রশ্নপত্র হতো, এখন ইন হাউজ প্রশ্ন হয়। আগে ক্লাস নিয়মিত হতোনা, এখন নিয়মিত ক্লাস হয় এবং ছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। এখানে আমি যোগদানের পূর্বে অনেক স্বজনপ্রীতিসহ নানা সমস্যা ছিলো, যে গুলো আমি শিক্ষকদের নিয়ে সমাধান করেছি। পরিবর্তন গুলোর কারনে কিছু কিছু শিক্ষক অসন্তুষ্ট। মূলত তারাই আমার নামে এই অভিযোগ দেওয়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Daily Bangladesh Patrika