
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা ইউএইচটি (UHT) দুধ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে দুধের প্যাকেটে পোকা, নষ্ট ও নিম্নমানের দুধ পাওয়ার অভিযোগ উঠলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে পোকা পাওয়ার অভিযোগের কোনো উল্লেখ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত উপজেলার ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণ গ্রুপের নরসিংদী ডিপোর মাধ্যমে ইউএইচটি দুধ সরবরাহ করা হয়। সরবরাহের পর কয়েকটি বিদ্যালয় থেকে দুধের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ আসে। এর মধ্যে ৪ নম্বর হুমায়ুনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযোগ বেশি আলোচনায় আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (২৯ জুন) এক অভিভাবক উপবৃত্তির কাজে বিদ্যালয়ে গিয়ে সংরক্ষিত দুধের কিছু প্যাকেটে ধুলাবালি ও ময়লা দেখতে পান। তার অভিযোগ, কয়েকটি প্যাকেটের গায়ে ১০ থেকে ১৫টি পর্যন্ত পোকা চলাফেরা করছিল। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পরে এর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগ পাওয়া দুধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ না করে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পরামর্শ অনুযায়ী অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে ছবি, ভিডিও এবং নষ্ট দুধ সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিদ্যালয়ে নতুন দুধ সরবরাহের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আলোচিত প্রতিবেদনে দুধের প্যাকেটে পোকা পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো তথ্য না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অভিভাবকদের অভিযোগের পরও যদি বিষয়টি তদন্ত হয়ে থাকে, তাহলে তার ফলাফল প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে দুধ পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রশিদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে পোকা পাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করাই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। তাই দুধের মান নিয়ে ওঠা সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।
Daily Bangladesh Patrika