জাহাঙ্গীর আলম
জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আজ ২৯.০৩.২০২৬ ইং, রোববার সকাল ১১ ঘটিকায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা ও কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক কাজী রনির উপর সন্ত্রাসী হামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, মামলার চার্জশিট দাখিল এবং সাংবাদিক রনির পরিবারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাংবাদিক এনামুল হক আরিফ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা ফরিদ খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সরাইল উপজেলা উপজেলার সভাপতি সাংবাদিক শাহীনুর তানভীর।
বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক এজাজ রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজয়নগর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক মামুন রানা, সরাইল উপজেলার সাধারণ সম্পাদক নাছির, সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন বরকত, প্রচার সম্পাদক জুনায়েদ মিয়া সহ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
মানববন্ধনে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। বক্তারা বলেন, সাংবাদিক কাজী রনির উপর হামলা কেবল একজন ব্যক্তির উপর নয়, বরং সমগ্র সাংবাদিক সমাজ ও গণতন্ত্রের উপর আঘাত। প্রধান বক্তা ফরিদ খান বলেন, “রনির উপর এই নৃশংস হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার না করে উল্টো ভুক্তভোগী পক্ষকে হয়রানি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ৬৪ জেলায় একযোগে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে এনামুল হক আরিফ বলেন, দেশে ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিকদের উপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সাংবাদিক দ্বীন ইসলামকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাংবাদিক কাজী রনির ভাই কাজী আশরাফ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলেও আসামিদের গ্রেফতার না করে উল্টো বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুল রব এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলামের ভূমিকারও সমালোচনা করেন।
সমাবেশ শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয় এবং আগামীকাল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতেও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়।
সাংবাদিক কাজী রনির ঘটনার বর্ণনা শুনে পুরো প্রেসক্লাব চত্বর শোকাহত পরিবেশে পরিণত হয় এবং উপস্থিত সাংবাদিকরা দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
Daily Bangladesh Patrika