
মোহাম্মদ হানিফ নিজস্ব প্রতিবেদক ফেনী
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টা—অসংলগ্ন আচরণে বৈঠক স্থগিত
পারিবারিক বন্ধন রক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার এক অনন্য মানবিক প্রয়াসের সাক্ষী থাকলো আজকের দিনটি।
আফসানা আক্তার নিশি ও তার স্বামী মীর মোহাম্মদ জিয়াউল হাসানের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক মনোমালিন্য নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকটি চট্টগ্রাম শাখার সম্মানিত সভাপতির ল’ চেম্বারে অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্থার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাষ্টার আবুল কাশেমের স্বপ্রণোদিত উদ্যোগে আয়োজিত এই সালিশি বৈঠকটি উপস্থিত সকলের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী হোছাইন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ও ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ, সেক্রেটারি মোহাম্মদ লিটন, আইন বিষয়ক সচিব অ্যাডভোকেট জাহানারা বেগম জেবা, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাবর ফয়েজ এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোলেমান মোঃ মসিউর রহমান।
এছাড়াও বৈঠকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে বিবাদীপক্ষের বড় ভাই, বড় বোনের স্বামীসহ অন্যান্য স্বজনরা অংশগ্রহণ করেন।
সংস্থার চট্টগ্রাম জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, গণমাধ্যম সচিব সেলিম খান এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতিতে বৈঠকটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বৈঠকের শুরুতে উভয় পক্ষের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনা হয় এবং পারিবারিক বিরোধের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে গঠনমূলক আলোচনা পরিচালিত হয়।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটি সমঝোতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা বিরোধ নিরসনে আশাব্যঞ্জক ভূমিকা রাখছিল।
তবে বৈঠকের মাঝামাঝি পর্যায়ে বিবাদীপক্ষের বড় বোনের স্বামী মোহাম্মদ ইস্কান্দরের অসংলগ্ন আচরণের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
তার এ আচরণে বৈঠকের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত সালিশি বৈঠকটি অনির্ধারিতভাবে মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে বিবাদীপক্ষের মীর মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান জানান, পারিবারিক সমাধানের জন্য তিনি ইতিবাচক ছিলেন, তবে পরিবারের কিছু সদস্যের অপ্রত্যাশিত আচরণ বৈঠকের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা বলেন, পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় এ ধরনের সালিশি উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে জটিল সমস্যারও সহজ সমাধান সম্ভব। তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, পরিবারই সমাজের মূল ভিত্তি, তাই পারিবারিক সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠক শেষে সংস্থার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মানবাধিকার রক্ষা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে সংস্থাটি ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
আয়োজকরা সকল অংশগ্রহণকারী ও সহযোগীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সবশেষে একটাই প্রত্যাশা—মানবিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধন অটুট রাখতে এমন উদ্যোগ সমাজজুড়ে আরও বিস্তৃত হোক।
Daily Bangladesh Patrika