
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মদন উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান নেত্রকোনা জেলা যুব অধিকার পরিষদ এর সহসভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন বলেছেন, এদেশের জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করে—এটাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। আর সেই জনগণই চাইলে যেকোনো সময় ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে সক্ষম। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। তাই যারা আজ ক্ষমতায় আছেন, তাদের অবশ্যই স্মরণ রাখা উচিত—জনগণের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া কখনোই সম্ভব নয়, গ্রহণযোগ্যও নয়।
১৯৭১ আমাদের জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ। এই ইতিহাসকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই, কিংবা এর সাথে অন্য কোনো আন্দোলনের তুলনাও চলে না। আবার ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনও আমাদের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহীদ নূর হোসেনসহ অসংখ্য ত্যাগের বিনিময়ে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটে, এবং বাংলাদেশ ফিরে পায় গণতান্ত্রিক পথচলা। এই আন্দোলনের গুরুত্বও কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না।
অতীতের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা কোনো সরকার যখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয় বা স্বৈরাচারী আচরণে লিপ্ত হয়, তখনই নতুন করে গণআন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোও তারই বহিঃপ্রকাশ। হাজারো আহত, পঙ্গু ও শহীদের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই অস্বীকার করার নয়। তাদের রক্তের ঋণ অস্বীকার করার চেষ্টা করলে ইতিহাস কখনো তা ক্ষমা করবে না।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া মানেই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা। গণভোট বা জনগণের রায়কে অস্বীকার করার চেষ্টা করলে তার ফলাফলও অতীতের মতোই হতে পারে। তাই যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের উচিত জনগণের ইচ্ছা ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
বাংলাদেশের জনগণ অধিকার আদায়ে কখনো পিছপা হয়নি। প্রয়োজনে তারা রাস্তায় নেমেছে, রক্ত দিয়েছে, তবুও নিজেদের অধিকার আদায় করেছে। এই ইতিহাসই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তাই বর্তমান সরকারের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান—
জনগণের শক্তিকে সম্মান করুন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন, এবং জনগণের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। কারণ, জনগণই শেষ কথা।
Daily Bangladesh Patrika