মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জেলে মোক্তার উদ্দিনের বসতঘরসহ পাঁচটি ঘর পুড়ে গেছে। আগুনে তাঁর দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, ছেলের পাঠানো টাকা ও ঋণের অর্থ মিলিয়ে জমিয়ে রাখা প্রায় ২২ লাখ টাকা পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। আগুনের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আংশিক পোড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর মধ্যপাড়া এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে পারেনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামপুর মধ্যপাড়ার রিয়াজ মিয়ার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাশাপাশি থাকা পাঁচটি বসতঘর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মোক্তার উদ্দিন ছোটবেলা থেকেই মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাছ বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের পাশাপাশি সৌদি আরবপ্রবাসী বড় ছেলে খাইরুলের পাঠানো টাকা এবং সম্প্রতি নেওয়া ঋণের অর্থ মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ টাকা জমিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। মোক্তার উদ্দিন জানান, ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামকে বিদেশে পাঠানোর জন্য গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে তিনি টাকা জমাচ্ছিলেন। আগামী মাসে সাইফুলকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। চলতি মাসে একটি এনজিও থেকে আরও ৪ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার পর তাঁর কাছে থাকা টাকার পরিমাণ প্রায় ২২ লাখে দাঁড়ায়। ব্যাংক হিসাব না থাকায় পুরো টাকাই তিনি বাড়ির একটি চালের ড্রামে রেখে দিয়েছিলেন। আগুনে ঘর ও আসবাবপত্রের সঙ্গে সেই টাকাও পুড়ে যায়। মোক্তার উদ্দিন বলেন, “অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়েছিলাম। প্রতিদিন নদীতে মাছ ধরে যা আয় হতো, সেখান থেকেই অল্প অল্প করে সঞ্চয় করেছি। ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর স্বপ্ন ছিল। এক মুহূর্তের আগুনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে ছেলেকে বিদেশে পাঠাব, জানি না।” স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু রহমান বলেন, মোক্তার উদ্দিন অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজে তাঁর তেমন আগ্রহ নেই। ব্যাংকে টাকা রাখার বিষয়েও তাঁর তেমন ধারণা ছিল না। তাই বাড়িতেই টাকা জমিয়ে রাখতেন। অগ্নিকাণ্ডে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য খাইরুন্নেসার স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্যামপুর গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা পাওয়া যায়নি। ফলে স্থানীয়দের নিজেদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছে। এতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অধিকাংশই অস্বচ্ছল। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাঁদের শুকনো খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোক্তার উদ্দিনের পুড়ে যাওয়া টাকা প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, আংশিক পোড়া ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার বিষয়টি যাচাই করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যাংকের মাধ্যমে এসব নোট পরিবর্তন করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।
42
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জেলে মোক্তার উদ্দিনের বসতঘরসহ পাঁচটি ঘর পুড়ে গেছে। আগুনে তাঁর দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, ছেলের পাঠানো টাকা ও ঋণের অর্থ মিলিয়ে জমিয়ে রাখা প্রায় ২২ লাখ টাকা পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। আগুনের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আংশিক পোড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর মধ্যপাড়া এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে পারেনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামপুর মধ্যপাড়ার রিয়াজ মিয়ার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাশাপাশি থাকা পাঁচটি বসতঘর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত মোক্তার উদ্দিন ছোটবেলা থেকেই মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাছ বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের পাশাপাশি সৌদি আরবপ্রবাসী বড় ছেলে খাইরুলের পাঠানো টাকা এবং সম্প্রতি নেওয়া ঋণের অর্থ মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ টাকা জমিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
মোক্তার উদ্দিন জানান, ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামকে বিদেশে পাঠানোর জন্য গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে তিনি টাকা জমাচ্ছিলেন। আগামী মাসে সাইফুলকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। চলতি মাসে একটি এনজিও থেকে আরও ৪ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার পর তাঁর কাছে থাকা টাকার পরিমাণ প্রায় ২২ লাখে দাঁড়ায়।
ব্যাংক হিসাব না থাকায় পুরো টাকাই তিনি বাড়ির একটি চালের ড্রামে রেখে দিয়েছিলেন। আগুনে ঘর ও আসবাবপত্রের সঙ্গে সেই টাকাও পুড়ে যায়।
মোক্তার উদ্দিন বলেন, “অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়েছিলাম। প্রতিদিন নদীতে মাছ ধরে যা আয় হতো, সেখান থেকেই অল্প অল্প করে সঞ্চয় করেছি। ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর স্বপ্ন ছিল। এক মুহূর্তের আগুনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে ছেলেকে বিদেশে পাঠাব, জানি না।”
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু রহমান বলেন, মোক্তার উদ্দিন অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজে তাঁর তেমন আগ্রহ নেই। ব্যাংকে টাকা রাখার বিষয়েও তাঁর তেমন ধারণা ছিল না। তাই বাড়িতেই টাকা জমিয়ে রাখতেন।
অগ্নিকাণ্ডে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য খাইরুন্নেসার স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্যামপুর গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা পাওয়া যায়নি। ফলে স্থানীয়দের নিজেদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছে। এতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অধিকাংশই অস্বচ্ছল। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাঁদের শুকনো খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মোক্তার উদ্দিনের পুড়ে যাওয়া টাকা প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, আংশিক পোড়া ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার বিষয়টি যাচাই করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যাংকের মাধ্যমে এসব নোট পরিবর্তন করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।