
সাইফুল ইসলাম লিসবন (পুর্তগাল) থেকে
দুই বছর আগে বাতিল করা বহুল আলোচিত ম্যানিফেস্টাসাও দে ইন্টারেসে ” বা আগ্রহ প্রকাশের মাধ্যমে বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি আবারও চালু করার ঘোষণা দিয়েছে
পর্তুগাল সরকার।
গতমাসে পার্লামেন্টে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্সি মন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমেরো এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মন্ত্রী মার্গারিদা ব্লাস্কো এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তারা বলেন নতুন এই নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালু করা হচ্ছে আইন নং ২৩/২০০৭ সংশোধন করে।
নতুন ব্যবস্থায় আইন ২৩/২০০৭ এর ধারা ৮৮.২ ও ধারা ৮৯.২ এর আওতায় কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা কঠিন শর্ত মেনে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই ধারা দুটি মূলত আগে থেকেই পর্তুগালে কাজ করা অভিবাসীদের বৈধ করার জন্য ব্যবহৃত হতো।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বৈধ হতে হলে
চারটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হবে।
প্রথমত আবেদনকারীর কাছে কমপক্ষে এক বছরের বৈধ চাকরির চুক্তি থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত নিয়মিত সোশ্যাল সিকিউরিটি ও ট্যাক্স প্রদানের রেকর্ড দেখাতে হবে।
তৃতীয়ত আবেদনের সময় গত ছয় মাসের ধারাবাহিক বেতন স্লিপ জমা দিতে হবে।
চতুর্থ এবং সবচেয়ে কঠিন শর্ত হলো, পর্তুগিজ ভাষার A2 লেভেলের দক্ষতার সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে পর্তুগালে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী
চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে লিসবনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষায় দূতাবাস পর্তুগাল সরকারের সঙ্গে
আলোচনা চালিয়ে যাবে।
লিসবন, পোর্তো ও ফারোতে থাকা কমিউনিটি নেতারা বলছেন, কাগজপত্রহীন বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ রেস্টুরেন্ট, কৃষি ও নির্মাণ খাতে কাজ করলেও তাদের বেশিরভাগেরই বৈধ চুক্তি বা ট্যাক্স রেকর্ড নেই। ভাষা সার্টিফিকেটের শর্ত পূরণ করাও তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।
এ বিষয়ে লিসবন বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের অনেক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “ সরকার ২০২৪ সালে আইন ৯/২০২৪ ম্যানিফেস্টাসাও বন্ধ করে আমাদের পথে বসিয়েছে। এখন আবার এমন শর্ত দিয়ে চালু করছে যা ৯০% মানুষ পূরণ করতে পারবে না। এটা আমাদের সঙ্গে প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়” তারা দ্রুত শর্ত শিথিল করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ জুন পর্তুগাল সরকার আইন ৯/২০২৪ জারি করে ম্যানিফেস্টাসাও দে ইন্টারেসে’ প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়। তখন বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে শুধু ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে পর্তুগালে প্রবেশ করা যাবে। সরকারের দাবি, দেশের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট এবং ব্যবসায়ীদের চাপের কারণে তারা আইন ৬১/২০২৫ এর মাধ্যমে আবারও এই প্রক্রিয়া চালুর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।