1. mdrouf834@gmail.com : দৈনিকবাংলাদেশপত্রিকা : দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকা
  2. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
Title :
মুন্সীগঞ্জে ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স-২০২৬’ পেল ইউনুছ খান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজঃ প্রবাসীদের কল্যাণ ও সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাশে থাকবে পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাব তাহিরপুরে কয়লা আমদানি কারক গ্রুপের নির্বাচনে প্রচার সম্পাদক পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন মোক্তার আবেদীন রাজু। পটিয়ায় বিএনপির বিপ্লব ও জাতীয় সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা। জামালগঞ্জে কারিতাসের উদ্যোগে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পালিত। ঝালকাঠির রাজাপুরে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএনও রিফাত আরা মৌরি* নতুন ঘর পেয়ে আবেগে কাঁদলেন জনম দুঃখী হতদরিদ্র জবেতন বিবি* কিশোরগঞ্জে জামাত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলেকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত তাহিরপুর উপজেলা কয়লা আমদানি কারক গ্রুপের নির্বাচনে সিনিয়র সহ- সভাপতি পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ। নবীনগরে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নওগাঁর সাপাহারে ১৬ বিজিবি’র আওতায় নতুন আদাতলা বিওপি ক্যাম্পের উদ্বোধন।

সুপরিচিত কবি, কথা-সাহিত্যিক, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা ও সাহিত্যচিন্তক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অনুগল্প : “মুখোশের আড়ালে”

মাধুরী ব্যানার্জী
  • Update Time : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৫ Time View
80

মুখোশের আড়ালে
-মাধুরী ব্যানার্জী

শহরের ব্যস্ততম মোড়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেখা যেত এক ভদ্রলোককে। পরনে দামি পোশাক, চোখে কালো চশমা, মুখে সবসময় মিষ্টি হাসি। নাম তাঁর অরিন্দম সেন। শহরের সবাই তাঁকে চিনত—দানশীল, ভদ্র, সমাজসেবী মানুষ হিসেবে।
কেউ অসুস্থ হলে সাহায্য করতেন, দরিদ্র ছাত্রদের বই দিতেন, শীতের রাতে কম্বল বিলাতেন। তাঁর প্রশংসায় পত্রিকার পাতাও ভরে উঠত।
কিন্তু অরিন্দমের বাড়িতে কাজ করত রতন নামের এক কিশোর। ছেলেটি সবসময় চুপচাপ থাকত। একদিন ভুল করে একটি দামি ফুলদানি ভেঙে ফেলতেই অরিন্দমের মুখের হাসি উধাও হয়ে গেল।
—“এত বড় ক্ষতি করেছিস! জানিস এর দাম কত?”
রতন কাঁপতে কাঁপতে বলল, “দাদা, ভুল হয়ে গেছে। আমার মাইনে থেকে কেটে নেবেন।”
অরিন্দম কঠিন গলায় বললেন, “তোর মতো লোকের জন্যই বাড়ির সর্বনাশ হয়।”
দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে কথাগুলো শুনছিলেন অরিন্দমের বৃদ্ধ মা। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “মানুষের সামনে যে মুখটা দেখাস, আর ঘরের ভিতর যে মানুষটা হয়ে উঠিস—দুটো কি একই?”
অরিন্দম চুপ করে গেলেন।
কয়েকদিন পর শহরে এক বড় অনুষ্ঠানে অরিন্দমকে ‘শ্রেষ্ঠ সমাজসেবী’ পুরস্কার দেওয়া হলো। মঞ্চে উঠে তিনি বললেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।”
হঠাৎ দর্শকসারির মাঝখান থেকে রতনের মা উঠে দাঁড়ালেন। তিনি অরিন্দমের বাড়িতে বহুদিন কাজ করেছেন।
কাঁপা গলায় বললেন, “বাবু, মানুষের সামনে দয়া দেখানো সহজ। কিন্তু যে মানুষটি তোমার ঘরের দরজার ভেতরে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তার প্রতি তোমার আচরণই বলে দেয় তুমি আসলে কেমন মানুষ।”
হলঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
অরিন্দমের হাতে ধরা পুরস্কারটি যেন হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল। তিনি মাথা নিচু করলেন। এতদিন যে মুখোশ পরে তিনি সমাজের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, আজ সেই মুখোশটাই যেন সবার সামনে খুলে পড়েছে।
সেদিন বাড়ি ফিরে তিনি প্রথমবার রতনের কাছে ক্ষমা চাইলেন।
রতন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
অরিন্দম বললেন, “মানুষকে দেখানোর জন্য ভালো হওয়া নয়, সত্যিই ভালো মানুষ হওয়াটাই আসল। এতদিন আমি শুধু মুখোশ পরে বেঁচেছি।”
বৃদ্ধ মা দূর থেকে মৃদু হাসলেন। শিক্ষা মানুষের আসল পরিচয় তার পোশাক, অর্থ বা লোকদেখানো সুনামে নয়—তার আচরণে। মুখোশ মানুষকে কিছুদিন লুকিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু সত্যকে চিরদিন আড়াল করে রাখতে পারে না।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2026