
সাকিব আহসান
প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার চিলাপাড়ায় বাঁশ দিয়ে বেড়া তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন জহুরুল ইসলাম। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি বেড়া তৈরির কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন কুতুবুল। বাঁশের তৈরি এসব বেড়া গ্রামীণ জনপদে বাড়ির সীমানা নির্ধারণ, বসতবাড়ি ঘেরা এবং বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। সীমিত কাঁচামাল, শারীরিক পরিশ্রম ও দক্ষতাকে পুঁজি করে তাঁদের এই কর্মযজ্ঞ স্থানীয়ভাবে শ্রমনির্ভর জীবিকার একটি পরিচিত চিত্র তুলে ধরছে।
চিলাপাড়ায় বাঁশের বেড়া তৈরির কাজে প্রতিদিন সময় দিতে হয় জহুরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগী কুতুবুলকে। কাঁচামাল হিসেবে কেনা ৫০টি বাঁশ দিয়ে টানা প্রায় ১৫ দিন কাজ করা যায়। বাঁশ সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রয়োজন অনুযায়ী কেটে নেওয়া, মাপ ঠিক করা এবং সেগুলোকে একসঙ্গে জুড়ে বেড়া তৈরির প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন হয় অভিজ্ঞতা ও মনোযোগ। কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁদের নির্দিষ্ট সময় ধরে শ্রম দিতে হয়।
জহুরুল ইসলাম বলেন, “বাঁশের বেড়া তৈরি করেই জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করি। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি বেড়া তৈরি করতে হয়। কাজটি দেখতে সহজ মনে হলেও এর জন্য ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও শারীরিক পরিশ্রম প্রয়োজন। বাঁশের মান ও আকার বুঝে কাজ করতে হয়, যাতে তৈরি বেড়া টেকসই হয়।”
তিনি আরও বলেন, “কাঁচামাল হিসেবে একসঙ্গে ৫০টি বাঁশ কিনে কাজ শুরু করি। এই বাঁশ দিয়ে প্রায় ১৫ দিন কাজ চালানো যায়। তবে কাঁচামাল কেনার খরচ, শ্রমের সময় এবং তৈরি পণ্যের চাহিদা—সবকিছু বিবেচনা করেই কাজ করতে হয়। নিয়মিত কাজ থাকলে সংসার চালানোর জন্য কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।”
জহুরুলের কাজে সহযোগিতা করেন কুতুবুল। বেড়া তৈরির বিভিন্ন ধাপে তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন। একজনের কাজের সঙ্গে অন্যজনের কাজের সামঞ্জস্য না থাকলে উৎপাদনের গতি কমে যায়। তাই প্রতিদিনের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে তাঁদের দক্ষতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
কুতুবুল বলেন, “জহুরুল ইসলামের সঙ্গে বেড়া তৈরির কাজে সহযোগিতা করি। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি বেড়া তৈরির লক্ষ্য থাকে। বাঁশ কাটা, মাপ ঠিক রাখা এবং বেড়ার কাঠামো শক্তভাবে তৈরি করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়। কাজের পরিমাণ অনুযায়ী সময় ও পরিশ্রম দিতে হয়। নিয়মিত কাজ থাকলে আমাদের মতো শ্রমনির্ভর মানুষের উপকার হয়।”
গ্রামীণ অর্থনীতিতে বাঁশের তৈরি পণ্যের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। আধুনিক নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়লেও অনেক এলাকায় কম খরচে সীমানা ঘেরা, অস্থায়ী বেড়া নির্মাণ কিংবা কৃষিকাজে বাঁশের বেড়ার প্রয়োজন রয়েছে। সহজলভ্যতা ও ব্যবহারিক সুবিধার কারণে এসব পণ্যের চাহিদা স্থানীয় বাজারে টিকে আছে।
তবে এ ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোগে কাঁচামালের মূল্য, পরিবহন ব্যয়, শ্রমের পারিশ্রমিক এবং পণ্যের বিক্রয়মূল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উৎপাদন বেশি হলেই যে আয় বেশি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রকৃত লাভ নির্ভর করে মোট ব্যয় ও বিক্রির ওপর।
বোচাগঞ্জের চিলাপাড়ায় জহুরুল ইসলাম ও কুতুবুলের এই শ্রমনির্ভর কর্মযজ্ঞ শুধু বাঁশের বেড়া তৈরির গল্প নয়; এটি গ্রামীণ মানুষের দক্ষতা, পরিশ্রম এবং জীবিকা টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টারও প্রতিচ্ছবি। স্থানীয় বাজারে ন্যায্য মূল্য, কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও নিয়মিত ক্রেতা নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের মতো ক্ষুদ্র উৎপাদকদের কাজ আরও স্থিতিশীল হতে পারে।