
মোঃনয়ন ইসলাম মানজার রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী।
উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন সমাজসেবক ও চিকিৎসক ডা. রাকিবুল হাসান মুরাদ। তিনি মনে করেন, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, মৎস্য, কর্মসংস্থান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে রাঙ্গাবালী একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হতে পারে।
ডা.মুরাদ বলেন,রাঙ্গাবালীর ছয়টি ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের অন্যতম ভোগান্তি হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা। অনেক এলাকায় এখনও কাঁচা রাস্তা থাকায় বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, রোগী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই টেকসই সড়ক নির্মাণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি অঞ্চলের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিতকরণ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক কর্মসূচি গ্রহণ জরুরি।
চিকিৎসা খাতের বিষয়ে ডা. মুরাদ বলেন, দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় রাঙ্গাবালীর মানুষ এখনও উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলা কিংবা বিভাগীয় শহরে যেতে হয়। অনেক সময় দীর্ঘ পথ ও যোগাযোগ সংকটের কারণে রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয়ে ওঠে। তিনি রাঙ্গাবালীতে দ্রুত একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ এবং উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান, যাতে চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষকে পথে কিংবা দূরবর্তী শহরে নেওয়ার সময় প্রাণ হারাতে না হয়।
তিনি আরও বলেন, রাঙ্গাবালীর অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষক ও জেলে সম্প্রদায়। কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন ছাড়া এ অঞ্চলের উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ সুবিধার জন্য খাল খনন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলেদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
নদীভাঙন রাঙ্গাবালীর মানুষের দীর্ঘদিনের এক বড় দুর্ভোগ উল্লেখ করে ডা. মুরাদ বলেন, প্রতিবছর অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
মান্তা (বেদে) সম্প্রদায়সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এসব জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
এছাড়া তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে যুবসমাজ দেশের সম্পদে পরিণত হবে।
ডা.রাকিবুল হাসান মুরাদ বলেন,রাঙ্গাবালী শুধু একটি উপজেলা নয়, এটি হাজারো মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সম্ভাবনার প্রতীক। উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাঙ্গাবালীর বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা গেলে দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় উপকূলীয় অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।