
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে এক মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ওই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দোকান থেকে জব্দ করা প্রায় দুই বস্তা পঁচা গরুর মাংস মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানা। অভিযানে প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকানে নিম্নমানের ও পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় দোকানে সংরক্ষিত মাংস পরীক্ষা করে তা পচে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানে বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাংস ব্যবসায়ী শারফিন কসাইয়ের দোকান থেকে প্রায় দুই বস্তা পঁচা গরুর মাংস জব্দ করা হয়। পরে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জব্দকৃত মাংস মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়, যাতে সেগুলো পুনরায় বাজারে বিক্রি বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করা না যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে পঁচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা পঁচা মাংস ধ্বংস করে জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভেজাল, নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যসামগ্রী বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সাধারণ মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে বাজার তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো ব্যবসায়ী যদি খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে বাজারে নিম্নমানের ও পঁচা খাদ্যপণ্য বিক্রি অনেকাংশে কমে আসবে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরাও। তাদের মতে, শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজন হলে পুনরাবৃত্ত অপরাধের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে কেউ জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে প্রতারণা করার সাহস না পায়।