
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
জুলাই শহিদদের স্মরণে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বৃক্ষরোপণ এবং গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলতেই এ ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজ নিজ এলাকায় গাছ লাগিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি মুজাহিদ বিল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের সাবেক জেলা সভাপতি জহিরুল ইসলাম এবং খাইরুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব চৌধুরী, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি আশিকুর রহমান, পলিটেকনিক শাখার সেক্রেটারি তাহমিদ হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অতিরিক্ত বৃক্ষনিধন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং পরিবেশ দূষণের কারণে দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তারা আরও বলেন, প্রতিবছর যে পরিমাণ গাছ কাটা হচ্ছে, সেই তুলনায় নতুন গাছ লাগানোর হার অনেক কম। ফলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রত্যেক মানুষ যদি অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তাহলে দেশকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে।
আলোচনায় বক্তারা ইসলামে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তারা বলেন, ইসলাম মানুষকে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বৃক্ষরোপণকে সওয়াবের কাজ হিসেবে উৎসাহিত করেছেন। তাই ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এমন আয়োজনকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, নিয়মিতভাবে গাছ লাগানো ও সেগুলোর পরিচর্যার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে পরিবেশ রক্ষায় বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয় এবং ক্যাম্পাসের নির্ধারিত কয়েকটি স্থানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ শুধু ক্যাম্পাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বৃক্ষরোপণের ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়বে এবং একটি সবুজ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।