1. mdrouf834@gmail.com : দৈনিকবাংলাদেশপত্রিকা : দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকা
  2. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
Title :
বেতাল বাজারে ঢালাই রাস্তার দুপাশে মাটি ভরাট কাজের উদ্বোধন করলেন মেজর অব আখতারুজ্জামান রঞ্জন লোহাগাড়ায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড যুব সমাজের উদ্যোগে ব্যাটমিন্টন টুনামেন্ট উদ্ভোধন নরসিংদীর শিবপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বক্তব্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন শ্রীনগরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানঃ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শৈলকুপা শাহী মসজিদের ৩০ লাখ টাকা গায়েব! মোতাওয়াল্লির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নওগাঁ জেলা সদর মডেল থানায় নতুন অফিসার (ওসির)যোগদান বটিয়াঘাটায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত। কটিয়াদীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন ।

রোহিনীর জীবনের অবলম্বন এক গরু, এক ছাগল আর একমুঠো ঘাস!

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৯ Time View
93

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

জীবন কখনো কখনো মানুষের সামনে এমন বাস্তবতা দাঁড় করায়, যেখানে স্বপ্নের চেয়ে বেঁচে থাকাটাই বড় হয়ে ওঠে। অভাবের সংসারে প্রতিদিনের আয়-রোজগারের পথ খুঁজে নিতে হয় নিজের মতো করে। তেমনই এক সংগ্রামী নারী রোহিনী রাণী। স্বামীহীন এই নারী জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঘাস কাটেন। সেই ঘাসের একটি অংশ রেখে দেন নিজের গরু ও ছাগলের জন্য, আর বাকি অংশ নিয়ে হাজির হন বাজারে। বিক্রি করা ঘাসের সামান্য আয় দিয়েই চলে তাঁর নিত্যদিনের প্রয়োজন।
রোহিনী রাণীর সংসারে রয়েছে দুটি ছেলে সন্তান। ছেলেরা এখন নিজেদের পরিবার নিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সন্তানরা আলাদা সংসারে ব্যস্ত থাকলেও মায়ের জীবনের কঠিন বাস্তবতা পুরোপুরি দূর হয়নি। বয়স ও পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রোহিনী নিজেকেই নিজের অবলম্বন করে নিয়েছেন। তাঁর সবচেয়ে বড় সম্বল এখন একটি গরু ও একটি ছাগল।
প্রতিদিন ভোর কিংবা সকাল হলেই হাতে কাস্তে নিয়ে ঘাসের সন্ধানে বের হন রোহিনী। মাঠের আইল, রাস্তার ধারের জমি কিংবা যেখানে গবাদিপশুর উপযোগী ঘাস পাওয়া যায়, সেখান থেকেই ঘাস সংগ্রহ করেন তিনি। মাথায় বা কাঁধে ঘাসের বোঝা নিয়ে ফিরে আসেন বাড়িতে। প্রথমে নিজের গরু ও ছাগলের জন্য প্রয়োজনীয় ঘাস আলাদা করে রাখেন। এরপর অবশিষ্ট ঘাস নিয়ে বাজারে বসেন বিক্রির জন্য।
রোহিনীর কাছে এই ঘাস শুধু ঘাস নয় এটাই তাঁর ছোট্ট অর্থনীতির চাকা। গরু-ছাগল দুটিকে বাঁচিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে সেগুলোই তাঁর জন্য কিছুটা আর্থিক নিরাপত্তার উৎস হতে পারে। আবার বাড়তি ঘাস বিক্রি করে পাওয়া অর্থে চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সুযোগ হয়।
রোহিনী রাণী বলেন, “স্বামী নেই, তাই নিজের সংসারের দায়িত্ব নিজেকেই সামলাতে হয়। ছেলেরা তাদের পরিবার নিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ করে। তারা যতটুকু পারে, ততটুকু সহযোগিতা করে। কিন্তু সবসময় তো তাদের ওপর নির্ভর করে থাকা যায় না। তাই নিজের মতো করে কাজ করি।”
তিনি আরও বলেন, “একটি গরু আর একটি ছাগলই এখন আমার সম্বল। তাদের জন্য ঘাস কাটি। যতটুকু দরকার রেখে দিই, আর বেশি হলে বাজারে বিক্রি করি। ঘাস বিক্রি করে যে টাকা পাই, তা দিয়েই ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাই। কষ্ট আছে, কিন্তু কাজ করতে পারলে মনটা ভালো থাকে।”
রোহিনীর এই জীবনকথা গ্রামীণ নারীর আত্মনির্ভরতার এক নীরব ছবি। বড় কোনো পুঁজি নেই, নেই দোকান কিংবা জমিজমার বড় পরিসর। আছে শুধু শ্রম দেওয়ার সামর্থ্য, একটি গরু, একটি ছাগল এবং প্রতিদিন ঘাস কাটার অদম্য ইচ্ছা। তাঁর জীবনের হিসাব হয়তো খুব ছোট, কিন্তু সেই ছোট হিসাবের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার বড় দর্শন।
সমাজের চোখে ঘাস বিক্রি করা হয়তো সাধারণ একটি কাজ। কিন্তু রোহিনীর কাছে প্রতিটি ঘাসের আঁটি তাঁর শ্রমের মূল্য, আত্মমর্যাদার প্রতীক। সন্তানদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজের প্রয়োজন নিজে মেটানোর এই চেষ্টা তাঁকে আলাদা করে চেনায়।
অভাব তাঁর জীবনে নিত্যসঙ্গী হলেও পরিশ্রম থেকে তিনি পিছিয়ে যাননি। প্রতিদিন ঘাস কাটতে বের হওয়া, গবাদিপশুর খাবার জোগাড় করা এবং উদ্বৃত্ত ঘাস বাজারে বিক্রি করা এই ধারাবাহিক শ্রমই তাঁর জীবনের গল্প। এক গরু, এক ছাগল আর একমুঠো ঘাসকে অবলম্বন করে রোহিনী রাণী প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজে চলেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2026