
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহাম্মদ আশরাফুল আমিনকে জড়িয়ে ২০২৪ সালের বলে দাবি করা একটি সূত্রবিহীন অডিও ক্লিপ এবং সেই অডিওর ওপর ভিত্তি করে কিছু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত এসব সংবাদ ও ভিডিওকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সুস্পষ্ট প্রতিবাদ জানিয়েছেন চসিক সচিব।
তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদ ও ভিডিও আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আমার দীর্ঘদিনের পেশাগত সততা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে আমি মনে করি। অডিওর কণ্ঠ আমার নয়
চসিক সচিব বলেন, প্রতিবেদনে যে অডিও ক্লিপটির উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ সূত্রবিহীন এবং এর সঙ্গে তাকে জড়ানোর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। অডিওতে ব্যবহৃত কণ্ঠ তার নয় দাবি করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার বা অন্য কোনো অসৎ উপায়ে অডিও তৈরি, সম্পাদনা কিংবা প্রচার করে তাকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
তার বক্তব্য, কোনো অডিও বা ভিডিও প্রকাশের আগে তার উৎস, সত্যতা, সময়কাল এবং সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। অথচ এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।আগ্রাবাদে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগও ভিত্তিহীন
প্রতিবেদনে আগ্রাবাদ এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সম্পূর্ণ অসত্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
চসিক সচিব বলেন, আগ্রাবাদ আমার জন্ম, শৈশব ও বেড়ে ওঠার এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে আমি এখানে সপরিবারে বসবাস করছি। আমার বা আমার স্ত্রী-সন্তানদের নামে চট্টগ্রাম কিংবা দেশের অন্য কোথাও, এমনকি বিদেশেও কোনো নিজস্ব বাড়ি, জমি বা ফ্ল্যাট নেই।
তিনি জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তার শ্রদ্ধেয় পিতা যে অ্যাপার্টমেন্টটি ক্রয় করেছিলেন, বর্তমানে তিনি তার অন্যান্য ভাইদের সঙ্গে সপরিবারে সেখানেই বসবাস করছেন। ফলে তার সম্পদ নিয়ে যে ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখিয়ে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, সেটিও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন চসিক সচিব।
তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি বিধি-বিধান, প্রশাসনিক নীতিমালা ও অর্পিত দায়িত্বের সীমারেখার মধ্যেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ বা কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
চসিকে শীর্ষ পদ আঁকড়ে ধরে একক আধিপত্য বিস্তার, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব বক্তব্যও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তার ভাষ্য, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি বিভাগ নিজ নিজ প্রশাসনিক কাঠামো ও দায়িত্ব অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে। মেয়র মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করা হয়।
তিনি বলেন, “সরকারি বিধিবিধান ও প্রশাসনিক এখতিয়ারের মধ্য থেকেই আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করছি। ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তার বা কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনিয়মের সুযোগ এখানে নেই।”
চসিক সচিব আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চলমান প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তার মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করা শুধু ব্যক্তিকে হয়রানি করার বিষয় নয়; এর মাধ্যমে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কেও জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা হতে পারে।
চসিক সচিব বলেন, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে। তিনি তথ্যভিত্তিক তদন্ত, আইনসম্মত যাচাই এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে স্বাগত জানান।
তবে প্রমাণ ছাড়া, সূত্রবিহীন অডিও বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচার করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি বলেন, “আমার দীর্ঘদিনের সরকারি চাকরি ও পেশাগত জীবনে আমি সততা, দায়িত্ববোধ ও বিধিবিধান মেনে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, যথাযথ প্রমাণসহ তা তদন্ত করা হোক। কিন্তু মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার মাধ্যমে আমাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, তাকে হয়রানি, অপমান ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য, ভুয়া অডিও বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিষয়ে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে তিনি নগরবাসীর প্রতি বিভ্রান্তিকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানান।