
সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সাগুনী এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ, উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। পূজাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে মন্দির সাজসজ্জা ও প্রতিমা নির্মাণের কাজ। সাগুনী সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে প্রতিমা ও মন্দিরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। কারিগর পুলিন মালাকারের দক্ষ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে মণ্ডপের নান্দনিকতা।
ছবিতে দেখা যায়, মন্দিরের ভেতরে প্রতিমা ও বিভিন্ন অলংকরণ তৈরির কাজ চলমান। মণ্ডপের দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন কারুকার্য ও ধর্মীয় ভাবধারার দৃশ্য। বাঁশ, মাটি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে চলছে নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসবে, ততই মণ্ডপটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এটি আনন্দ, মিলন ও সম্প্রীতিরও উৎসব। বছরের এই সময়টিতে দূর-দূরান্তে থাকা স্বজনেরা বাড়িতে ফেরেন। নতুন পোশাক, পূজার প্রস্তুতি, মণ্ডপে যাতায়াত এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সাগুনী এলাকার এক হিন্দু ভক্ত বলেন, দুর্গাপূজা তাঁদের কাছে অত্যন্ত আবেগের একটি উৎসব। প্রতিবছর পূজার সময় পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি হয়। মন্দিরের কাজ এগিয়ে যেতে দেখে এবারও তাঁদের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, পূজাকে কেন্দ্র করে শুধু ধর্মীয় আয়োজনই নয়, এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যও বাড়ে। ছোট-বড় সবাই মিলে মণ্ডপে সময় কাটান। বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা উৎসবের আবহে পরিণত হয়।
এক নারী ভক্ত বলেন, দুর্গাপূজার কয়েক দিন তাঁরা বিশেষভাবে অপেক্ষা করেন। পূজার প্রস্তুতি, মণ্ডপে যাওয়া, অঞ্জলি দেওয়া এবং স্বজনদের সঙ্গে দেখা হওয়া—সবকিছু মিলিয়ে এই উৎসব তাঁদের জীবনে আলাদা আনন্দ নিয়ে আসে। মন্দিরের সাজসজ্জা যত সুন্দর হয়, উৎসবের আনন্দও তত বাড়ে।
স্থানীয় এক তরুণ বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যেও দুর্গাপূজাকে ঘিরে আগ্রহ রয়েছে। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তরুণদের উৎসবের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্যাপন হলে এটি স্থানীয় সম্প্রীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মণ্ডপ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সাগুনী সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের চলমান কাজ শেষ হলে পূজার সময় মণ্ডপটি আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। কারিগর পুলিন মালাকারের হাতে নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ এগিয়ে চলেছে। এখন অপেক্ষা শুধু উৎসবের দিনের। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও পূজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সাগুনীর মন্দির প্রাঙ্গণও তখন মুখর হয়ে উঠবে।