1. mdrouf834@gmail.com : দৈনিকবাংলাদেশপত্রিকা : দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকা
  2. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
Title :
তাহিরপুরে কয়লা আমদানি কারক গ্রুপের নির্বাচনে প্রচার সম্পাদক পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন মোক্তার আবেদীন রাজু। পটিয়ায় বিএনপির বিপ্লব ও জাতীয় সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা। জামালগঞ্জে কারিতাসের উদ্যোগে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পালিত। ঝালকাঠির রাজাপুরে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএনও রিফাত আরা মৌরি* নতুন ঘর পেয়ে আবেগে কাঁদলেন জনম দুঃখী হতদরিদ্র জবেতন বিবি* কিশোরগঞ্জে জামাত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলেকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত তাহিরপুর উপজেলা কয়লা আমদানি কারক গ্রুপের নির্বাচনে সিনিয়র সহ- সভাপতি পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ। নবীনগরে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নওগাঁর সাপাহারে ১৬ বিজিবি’র আওতায় নতুন আদাতলা বিওপি ক্যাম্পের উদ্বোধন। নবীনগর পৌরসভায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১০ ‎শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

যশোরের ট্রাক্টর মালিক ও পার্টস ব্যাবসায়ীরা মন্দায় পুলিশি হয়রানিতে দিশেহারা লক্ষ ট্রাক্টর মালিক

মালিকুজ্জামান কাকা
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৬ Time View
62

মালিকুজ্জামান কাকা
যশোর সারা দেশে ট্রাক্টর পার্টস ও ওয়ার্কশপে বিখ্যাত। জেলা সদরের চাঁচড়া ও পুলেরহাটে গড়ে উঠেছে ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসা। যান্ত্রিক মেরামত কারখানা বা ওয়ার্কশপ এখানে শতাধিক। কিন্তু তাদের সুখ এখন নাগালের বাইরে। ট্রাক্টর আসতে পারছে না সড়ক পথে। ট্রাক্টর সড়কে দেখলেই ধরে জিম্মায় নিচ্ছে পুলিশ। কৃষি কাজে ব্যবহৃত বলেও ছাড় পাচ্ছে না। ফলে ট্রাক্টর মালিক আর পার্টস ব্যাবসায়ীরা আজ চরম সংকটে।
ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা বা সরকারি কর্তাদের বলেও কোন কাজ হচ্ছে না। সেসব হচ্ছে কথার কথা যা নিয়ে নেই পুলিশের মাথা ব্যাথা। দক্ষিনাঞ্চলের লক্ষ ট্রাক্টর মালিক সঙ্গত কারণে এখন হতাশ। ট্রাক্টরের কিস্তি পরিশোধের চাপের সাথে পুলিশি হয়রানিতে তারা নিদারুন সংকটে। আর ট্রাক্টর না আসায় ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসা এবং মেরামত ওয়ার্কশপ গুলোতে এখন বেজায় মন্দা ভর করেছে।
ট্রাক্টর মালিকরা জানান সড়কে উঠলেই পুলিশ ট্রাক্টর আটকায়। কিছু কিছু ছাড়ানো হয় বটে তবে তার জন্য উৎকোচ দিতে দিতে মালিকরা লোকসানে পিষ্ট। শুধু নামেই যেন কৃষি বান্ধব সরকার। তারা আরো বলেন, মুড়োলি মোড়, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি ও চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে ট্রাক্টর আটকায়। মনের দুঃখে অনেকেই ট্রাক্টর বাড়িতে ফেলে রেখেছে।
আবার বাড়ি ট্রাক্টর মিস্ত্রী আনতে হলে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে মিস্ত্রীকে। তারা এখন উভয় সংকটে পড়েছে। ৫০০ টাকার কাজ সারতে ৫/৬ হাজার টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটা তাদের যেন মড়ার উপর খাড়ার ঘা। শুধু যশোর জেলায় ২০ থেকে ২২ হাজার ট্রাক্টর রয়েছে। এদের বেশিরভাগ এখন কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদল শেখ বলেন, যেহেতু ট্রাক্টর কৃষি উপকরণ সেহেতু পুলিশ সড়কে সেটা অবাধ করে দিলে কোন সমস্যা নেই। আর যখনি পুলিশ ট্রাক্টর আটকাবে তখন প্রায় বিশ হাজার পরিবারের পেটে লাথি পড়ছে।
ডিসি তথা জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান। এটি সকলের পক্ষে একটিই প্রধান দাবি। কৃষি যন্ত্র বৃহৎ স্বার্থে উন্মুক্ত না করা হলে ট্রাক্টর খাতের লোকজন দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়বে। তখন আমাদের মুক্তির আর কোন পথই খোলা থাকবে না।
পার্টস ব্যাবসায়ী আব্দুর রহমান ভুট্ট, নাসির খসরু শাহীন, সফিয়ার রহমান, ফরিদ শেখ, সাইফুল মোড়ল, আরিফুল ইসলাম, লেদ মালিক সমিতির জাহাঙ্গীর হোসেন তাদের কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, যদি যশোর -৩ সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত বিষয়টি আমলে নিয়ে যদি সমস্যাটির দ্রুত সমাধান করেন তাহলে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে হয়তো রক্ষা পাবো। নইলে আমাদের ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসা ছেড়ে দিতে রুটি রুজি পরিচালনায় অন্য পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায়ী আমিনুর রহমান বলেন বিষয়টি যশোর-৩ আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য ও সরকারের বিদ্যুৎ খনিজ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী কে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাবস্থা গ্রহণ এখনো হয়তো করা হয়নি। আমরা তার দিকে চেয়ে আছি।
গত ২৮ জুলাই চাঁচড়ায় যশোরের ট্রাক্টর মালিক, ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায়ীদের সভা হয়। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায়ী আমিনুর রহমান আমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ী শাফিউর রহমান, সাইফুর রহমান, সাইফুল মীর, বাদল শেখ, জাহাঙ্গীর হোসেন, ট্রাক্টর মহাজন জাহাঙ্গীর হোসেন, শাহিন ফরিদ আরো অনেকে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মহাজন ড্রাইভার হেলপার সহ বিভিন্ন স্তরের ট্রাক্টর পার্টস ।ব্যবসায়ী।
সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁচড়া ট্রাক্টর মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদল শেখ। তিনি বলেন খেটে খাওয়া দিনমজুরি ট্রাক্টর মাহজনগণ বিভিন্ন এনজিও ব্যাংকে জমি বন্ধক রেখে ট্রাক্টর কেনে। নিজের গাড়ি নিজে চালায়। অর্থের অভাবে ড্রাইভার নিজেই হেলপার হন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাক্টর মালিক ও পার্টস ব্যাবসায়ী, লেদ মালিকদের। একদিকে দেনা করে ট্রাক্টর কিনে তা শোধ করার প্রাণান্ত চেষ্টা অন্যদিকে ট্রাক্টর শিল্পের সাথে আরো অনেক শ্রেণীর মানুষের সংসার জড়িত রয়েছে তাই আমার একান্তই দাবি জোর দিয়ে বলতে চাই পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে দাবি জানাই এই ট্রাক্টর এগ্রিকালচারের গাড়ি। চাষের গাড়িগুলো যেন পুলিশ প্রশাসন না ধরে সেই আহ্বান তাদের। বিভিন্ন জায়গা থেকে পুলিশ গাড়ি ধরে নিয়ে যায়। খেটে খাওয়া এসব মানুষ গ্রামের এখন অসহায় মানুষ। অভাবের তাড়নায় তারা মন খুলে কথা বলতে পারেনা। ফলে ট্রাক্টর সংশ্লিষ্টরা অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2026