1. mdrouf834@gmail.com : দৈনিকবাংলাদেশপত্রিকা : দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকা
  2. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
Title :
তাহিরপুরে কয়লা আমদানি কারক গ্রুপের নির্বাচনে প্রচার সম্পাদক পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন মোক্তার আবেদীন রাজু। পটিয়ায় বিএনপির বিপ্লব ও জাতীয় সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা। জামালগঞ্জে কারিতাসের উদ্যোগে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পালিত। ঝালকাঠির রাজাপুরে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএনও রিফাত আরা মৌরি* নতুন ঘর পেয়ে আবেগে কাঁদলেন জনম দুঃখী হতদরিদ্র জবেতন বিবি* কিশোরগঞ্জে জামাত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলেকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত তাহিরপুর উপজেলা কয়লা আমদানি কারক গ্রুপের নির্বাচনে সিনিয়র সহ- সভাপতি পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ। নবীনগরে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নওগাঁর সাপাহারে ১৬ বিজিবি’র আওতায় নতুন আদাতলা বিওপি ক্যাম্পের উদ্বোধন। নবীনগর পৌরসভায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১০ ‎শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

সুবলপুর—ভৈরব নদীর বুকে সুইচগেট যেনো আধুনিকতার ছোঁয়া

মোঃ মিনারুল ইসলাম চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৪ Time View
104

২৮/০৮/২০২৬ ইং শুক্রবার

দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ভৈরব—নদী, সবুজ আর সম্প্রীতির এক আদর্শ গ্রাম সুবলপুর । এটি ঐতিহ্যবাহী ও আদর্শ গ্রাম নামে পরিচিত।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, নদ-নদীর সান্নিধ্য, মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠা এই গ্রামটি যেন গ্রাম বাংলার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। দামুড়হুদা উপজেলা থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুবলপুর গ্রাম শুধু একটি জনপদের নাম নয়; বরং এটি হয়ে উঠেছে প্রকৃতি, মানুষের ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য ঠিকানা।

সুবলপুরের ভৌগোলিক অবস্থানও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। গ্রামের উত্তর দিকে বয়ে চলেছে ভৈরব নদী, আর পূর্ব দিকে রয়েছে মাথাভাঙ্গা নদী। গ্রামের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে এসে ভৈরব নদী মিলিত হয়েছে মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে।

দুই নদীর এই মিলনস্থল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য যেন এক অপূর্ব দৃশ্যপট। নদীর জল, বিস্তৃত আকাশ, সবুজের সমারোহ আর নদীতীরের নির্মল পরিবেশ মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে এক স্বাভাবিক সৌন্দর্যের আবহ। আর এই মনো মুগ্ধকর স্থানেই অবস্থিত সুবলপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠ।

সুবলপুরের নতুন সংযোজন সুবলপুর সুইচগেট। ভৈরব নদীর ওপর নির্মিত এই সুইচগেটটি অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ায় এটি এখন অনেকের কাছেই ‘সুবলপুর সুইচগেট’ নামে পরিচিত। ছুটির দিন তো বটেই, অন্যান্য দিনেও এখানে মানুষের ভিড় দেখা যায়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে সুইচগেটের সৌন্দর্য উপভোগ করতে, নদীর নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের মেলাতে। ফলে সুবলপুর ধীরে ধীরে একটি আকর্ষণীয় ভ্রমণ ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি লাভ করছে।

সুবলপুরের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি। গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় কয়েকটি মক্তব রয়েছে। গ্রামের একেবারে মাঝখানে অবস্থিত বড় জামে মসজিদটি সুবলপুরের মানুষের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। আর ঈদের সময় এই সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা যায় সুবলপুরের ঈদগাহ মাঠে।

সুবলপুর ও পার্শ্ববর্তী কাঞ্চনতলা গ্রামের মানুষ ঈদের দিন এই ঈদগাহে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। দুই গ্রামের মানুষের একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের এই দৃশ্য পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক সুন্দর প্রতিচ্ছবি।

গ্রামের দক্ষিণ দিকে রয়েছে জেলার পরিচিত রাইসার বিল। বর্ষাকালে বিলের বিস্তৃত জলরাশি এবং চার পাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য সুবলপুরের সৌন্দর্যে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। নদী, বিল, সবুজ মাঠ আর গ্রামীণ জনজীবন—সব মিলিয়ে সুবলপুর যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা একটি ছবি।

জনসংখ্যার দিক থেকেও সুবলপুর একটি উল্লেখ যোগ্য গ্রাম। গ্রামে বর্তমানে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটার রয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও গ্রামের অবস্থান অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

স্থানীয়দের মতে, সুবলপুরের শিক্ষিতের হার প্রায় শতভাগ—যা একটি গ্রামের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। শিক্ষা ও সচেতনতার এই অগ্রগতি গ্রামের সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথকে আরও প্রশস্ত করছে।

তবে সুবলপুরের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়তো এর মানুষ। গ্রামের মানুষ একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে এবং মিলেমিশে বসবাস করতে ভালোবাসেন। এখানে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক বন্ধনের একটি সুন্দর পরিবেশ রয়েছে।

গ্রামের চায়ের দোকানগুলোও যেন সেই সামাজিক জীবনের ছোট ছোট আড্ডাকেন্দ্র—কাজের ফাঁকে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চলে গল্প, আলোচনা, হাসি-ঠাট্টা আর গ্রামের নানা বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত আড্ডা। এসব সাধারণ দৃশ্যই একটি গ্রামকে আপন করে তোলে, মানুষের মনে শেকড় গেড়ে দেয়।

আজকের সুবলপুর শুধু অতীতের ঐতিহ্যকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে নেই; বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন পরিচয়ও তৈরি করছে। একদিকে নদী ও বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অন্যদিকে নতুন সুইচগেটকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ—সব মিলিয়ে সুবলপুরের সম্ভাবনা দিন দিন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। পরিকল্পিত ভাবে যদি এই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়, তাহলে ভবিষ্যতে সুবলপুর চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে।

সুবলপুর শুধু একটি গ্রামের নাম নয়। এটি নদীর স্রোতে ভেসে চলা এক জনপদের গল্প; এটি সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য, শিক্ষার অগ্রগতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন এবং মানুষের ভালোবাসায় গড়ে ওঠা এক প্রাণবন্ত গ্রাম। ভৈরব ও মাথাভাঙ্গার মিলনস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা সুবলপুর যেন নিঃশব্দে বলে—গ্রামের সৌন্দর্য শুধু তার প্রকৃতিতে নয়, তার মানুষের হৃদয়েও।

আর সেই কারণেই সুবলপুর আমাদের কাছে শুধু একটি মানচিত্রের স্থান নয়—এটি আমাদের জেলার শেকড়, আমাদের উপজেলার পরিচয়, ভালোবাসার গ্রাম।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2026