
কামরুল ০১৮৮৩০৮৮০৮৪
লোহাগাড়া সাতকানিয়া চট্টগ্রাম ১৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ শাহজাহান চৌধুরী ও লোহাগাড়া-সাতকানিয়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য লোহাগাড়া সাতকানিয়ার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এই আবেদন।
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়’সাংবাদিক কামরুল ইসলামে’র মাস্টার হাট বাড়ি এবং আমিরাবাদ ছৈয়দ পাড়ার সাংবাদিক ফাহাদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি এবং বিভিন্ন বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং আধুনগর বাজারে কয়েকটি দোকান লুট হয়েছে। এই সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনাটি স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে ।অথচ লোহাগাড়া থানার কোন ভূমিকা চোখে পড়েনি এক কথায় লোহাগাড়া থানার পুলিশ ব্যর্থ । সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে চুরি ডাকাতি উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে রাতের বেলা নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরণের ভীতি কাজ করছে। এই সময় মাননীয় সংসদ সদস্য এমপি শাহাজাহান চৌধুরী ও বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ অতি জরুরী হয়ে পড়েছে কেননা লোহাগাড়া থানার পুলিশের উপর আপনাদের প্রিয় জনসাধারণ আস্থা রাখতে পারছেন না । সময়ের গতিতে সময় চলছে অথচ পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছেন তাই আপনাদের শক্ত হাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিচালনা করা দরকার বলে মনে করেন সাধারণ জনগণ। জনগণের বক্তব্যে বিস্তারিত জানতে গিয়ে জানাযায় (০৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে) সংঘবদ্ধ চোরের দল সাংবাদিক কামরুল ইসলামের বাড়িতে আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে নগদ ৫ লাখ টাকা সহ, ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। চোরচক্র গভীর রাতে অথবা পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঘরের তালা বা সিটকানি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এই অপকর্ম চালায়। এই ঘটনার পর থেকে লোহাগাড়ার নয় ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ‘রাত নামলেই চুরি ও ডাকাতির আতঙ্ক’ দেখা দিয়েছে। অনেকেই রাতের বেলা ঘরবাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনি পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় বিষয়টি অবহিত করা হলেও পুলিশ কোন ধরনের ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি এবং পুলিশের বক্তব্যে পুলিশ বলেন উনারা নাকি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এলাকাবাসীর দাবি—রাতের বেলা পুলিশের বিশেষ টহল চোখে পড়ে না তাই এমপি শাহাজাহান চৌধুরী ও বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ আপনারা লোহাগাড়া থানার ওসি সাহেব কে বলুন উনি যেন উনার পুলিশ বাহিনীর রাতে ডিউটিতে নিয়োজিত থাকে তাদের ডিউটি জোরদার করেন । এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে চোর ও ডাকাত চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনেন। লোহাগাড়ার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেভাবে ভেঙ্গে পড়েছে তা উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়- লোহাগাড়া উপজেলায় সম্প্রতি চুরি-ডাকাতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। বিশেষ করে ফাঁকা বাড়ি চোরদের প্রধান টার্গেট। দিনের বেলায় পরিবারের লোকজন বাইরে থাকলেও রাতের অন্ধকারে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে অনেককে।
গত দেড় মাসের বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ডাকাতি থেমে নেই। এসব ঘটনায় কোথাও সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে চোর-ডাকাতরা। একই রাতে একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আদারচর এলাকায় শিক্ষক আলিম সামাদের বসতঘরে চুরি হয়। চোররা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় বলে জানান তিনি। একই রাতে সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার পাড়ায় প্রবাসী জসিম উদ্দিনের বাড়িতেও চুরি হয়। একই রাতে বড়হাতিয়া ইউনিয়নের আমতলী বেপারী পাড়া থেকে মুজিবুর রহমানের একটি সিএনজিচালিত গাড়িও দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে যায়।
এর মাত্র কিছুদিন আগে ২৩ আগস্ট রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমির খান চৌধুরী পাড়ায় কফিল উদ্দিনের বসতঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় চোররা। একই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা আনোয়ার হোসেনের একটি মোটরসাইকেলও চুরি হয়।ওই রাতেই আরও দুটি বাড়িতে চুরির চেষ্টা চালানো হয়। তবে বাড়ির লোকজন সজাগ হয়ে উঠলে চোররা পালিয়ে যায়।
অস্ত্রের মুখে ডাকাতি, লুট ১৮ লাখ টাকা,
চুরির পাশাপাশি ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনাও স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ১৭ আগস্ট ভোরে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লিক ছোবহান তজু মুন্সির গ্যারেজ এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বসতঘরে ডাকাতির অভিযোগ ওঠে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী জমির উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিনের পরিবারের দাবি, ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ প্রায় ১৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। চোরদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। ৩ আগস্ট রাতে সদর ইউনিয়নের দরবেশহাট এলাকার শাহী দরবেশিয়া জামে মসজিদের জানালার গ্রিল কেটে আইপিএসের ব্যাটারি ও দানবাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যায় চোররা। এর আগে ১৯ জুলাই রাতে চুনতি ইউনিয়নের সুফিনগর মসজিদে-আর-রাহমা থেকে প্রায় ৪০০ গজ বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
২০ আগস্ট কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আদারচর এলাকায় মোহাম্মদ আলী হায়দারের ফাঁকা বসতঘরেও চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত ১৪ জুলাই রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমির খান চৌধুরী পাড়ায় প্রবাসী জুনু মিয়ার ফাঁকা বাড়িতে চুরি হয়। পরিবারের দাবি, সেখান থেকে প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোররা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে গেলেই অনেক সময় চোররা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়া, আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া কিংবা কয়েক দিনের জন্য বাড়ি ফাঁকা রাখাকে কেন্দ্র করে ঘটছে চুরি।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় অপরিচিত লোকজনের চলাচল নিয়ে অনেক সময় সন্দেহ হলেও যথাযথ নজরদারি না থাকায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, মাদকসেবী, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের একটি অংশ ছোটখাটো অপরাধ থেকে বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন নির্জন সড়ক ও এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক মর্যাদা, ভয় কিংবা মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার আশঙ্কায় অনেক ভুক্তভোগী ঘটনা প্রকাশ্যে আনতে চান না।
সর্বশেষ চুরির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক আলিম সামাদ। তিনি জানান, চুরির দিন পারিবারিক নানা সমস্যায় তিনি ব্যস্ত ছিলেন। তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় সারাদিন তাকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে তার মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে পাশের এলাকায় বসবাসরত বড় ভাই আবু বক্করের বাড়িতে চলে যান পরিবারের সদস্যরা। এই সুযোগেই চোররা তার বাড়িতে প্রবেশ করে। আলিম সামাদ বলেন, চুরি হওয়া নগদ টাকা তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও জায়গা থেকে ধার-কর্জ করে সংগ্রহ করেছিলেন। সেই টাকা হারিয়ে এখন স্ত্রীর চিকিৎসা কীভাবে চালাবেন তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
মাদক-জুয়া-কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ,
সচেতন মহলের মতে, চুরি-ডাকাতি বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। এর পেছনে মাদক, অনলাইন জুয়া, বেকারত্ব, অসৎ সঙ্গ ও পারিবারিক-সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দ্রুত টাকা পাওয়ার আশায় তরুণদের একটি অংশ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। পরে সেই অর্থের ঘাটতি পূরণ করতে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে
তাই শুধু চুরি-ডাকাতির ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তার নয়, অপরাধের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নিয়মিত পুলিশি টহল, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি, সন্দেহভাজনদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
একই সঙ্গে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে। অপরাধপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।