মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী। শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গাছের নিচে বসিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও তাদের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের খোলা জায়গায় কিংবা গাছের নিচে বসিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। একটি বিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সুন্দর ও উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু যেখানে শিশুদের শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে গাছতলায় বসে পাঠ নিতে হচ্ছে, সেখানে তাদের পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, ছোট ছোট শিশুদের দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে ক্লাস করানো অত্যন্ত কষ্টকর। বিশেষ করে প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি শিশুর শিক্ষার ভিত্তি তৈরি হয়। তাই এই পর্যায়ে উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সীমিত সুযোগের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শুধু শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন। এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে প্রকৃত পরিস্থিতি দেখুন। বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে শত শত শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে। একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা ভালোভাবে পড়াশোনা করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের অভাবে যদি গাছের নিচে বসে ক্লাস করতে হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।” স্থানীয়দের আরও দাবি, শুধু সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান নয়, বিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া দরকার। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ ভবন, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের উপযোগী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ অনেকটাই উন্নত হবে। প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়টির সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং শিশুদের গাছের নিচে নয়, নিরাপদ ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করবে। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এলাকাবাসীর আহ্বান—বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
74
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী। শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গাছের নিচে বসিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও তাদের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের খোলা জায়গায় কিংবা গাছের নিচে বসিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
একটি বিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সুন্দর ও উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু যেখানে শিশুদের শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে গাছতলায় বসে পাঠ নিতে হচ্ছে, সেখানে তাদের পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ছোট ছোট শিশুদের দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে ক্লাস করানো অত্যন্ত কষ্টকর। বিশেষ করে প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি শিশুর শিক্ষার ভিত্তি তৈরি হয়। তাই এই পর্যায়ে উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সীমিত সুযোগের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শুধু শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে প্রকৃত পরিস্থিতি দেখুন। বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে শত শত শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।
একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা ভালোভাবে পড়াশোনা করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের অভাবে যদি গাছের নিচে বসে ক্লাস করতে হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।”
স্থানীয়দের আরও দাবি, শুধু সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান নয়, বিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া দরকার। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ ভবন, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের উপযোগী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ অনেকটাই উন্নত হবে।
প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়টির সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং শিশুদের গাছের নিচে নয়, নিরাপদ ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করবে।
শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এলাকাবাসীর আহ্বান—বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।