কুলিয়ারচরে রাতের সড়কে আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় দুই ছিনতাই, আহত ২
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
Update Time :
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
৫৬
Time View
কুলিয়ারচরে রাতের সড়কে আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় দুই ছিনতাই, আহত ২
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে রাতের সড়কে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার দুটি পৃথক স্থানে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই ব্যক্তি। এর মধ্যে একজন মোটরসাইকেল চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। অপর ঘটনায় এক যুবককে চোখ বেঁধে মারধর করে নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। প্রথম ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের আগরপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায়। জানা যায়, শেরপুরের এক যুবক মোটরসাইকেলে ভৈরব থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলেন। আগরপুর বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে ইসরাতুল জান্নাত কওমি মহিলা মাদ্রাসার কাছে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁর পথরোধ করে। তিনি মোটরসাইকেল থামানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাঁর মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানার এসআই মনজুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত যুবককে উদ্ধার করে। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ময়মনসিংহগামী একটি বাসে তুলে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আহত ব্যক্তি ভৈরবে একটি ব্র্যাক সমিতির অফিসে চাকরি করেন। এর প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে একই উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর রাজগোপাট সড়কে আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় নজের বাড়ি গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে রিমন মিয়া (২৫) ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে তাঁর নতুন বাড়িতে যাচ্ছিলেন। নির্জন সড়কে পৌঁছালে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি তাঁর পথ আটকে দেয়। পরে তাঁর চোখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা পরে রিমনকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, কুলিয়ারচরের নোয়াগাঁও, আগরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রাতের বেলায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের নির্জন অংশগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন থামিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ দুই ঘটনায় সড়কে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ঘটনাগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এদিকে স্থানীয়রা রাতের সড়কে পুলিশের টহল জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ছবির ক্যাপশন: পুলিশের সঙ্গে আহত মোটরসাইকেল চালক ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় আহত রিমন মিয়া।
97
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে রাতের সড়কে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার দুটি পৃথক স্থানে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই ব্যক্তি। এর মধ্যে একজন মোটরসাইকেল চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। অপর ঘটনায় এক যুবককে চোখ বেঁধে মারধর করে নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের আগরপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায়।
জানা যায়, শেরপুরের এক যুবক মোটরসাইকেলে ভৈরব থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলেন। আগরপুর বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে ইসরাতুল জান্নাত কওমি মহিলা মাদ্রাসার কাছে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁর পথরোধ করে। তিনি মোটরসাইকেল থামানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাঁর মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানার এসআই মনজুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত যুবককে উদ্ধার করে। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ময়মনসিংহগামী একটি বাসে তুলে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আহত ব্যক্তি ভৈরবে একটি ব্র্যাক সমিতির অফিসে চাকরি করেন।
এর প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে একই উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর রাজগোপাট সড়কে আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় নজের বাড়ি গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে রিমন মিয়া (২৫) ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে তাঁর নতুন বাড়িতে যাচ্ছিলেন। নির্জন সড়কে পৌঁছালে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি তাঁর পথ আটকে দেয়। পরে তাঁর চোখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়রা পরে রিমনকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কুলিয়ারচরের নোয়াগাঁও, আগরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রাতের বেলায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের নির্জন অংশগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন থামিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ দুই ঘটনায় সড়কে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ঘটনাগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে স্থানীয়রা রাতের সড়কে পুলিশের টহল জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ছবির ক্যাপশন: পুলিশের সঙ্গে আহত মোটরসাইকেল চালক ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় আহত রিমন মিয়া।