
মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ রাজু (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১৩ বছর আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর সোহেল হত্যা মামলার রায় দিয়েছে আদালত। মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাদী পক্ষ ও আহতরা।
গতকাল ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে ময়মনসিংহের ৪র্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারজানা আহমেদ* এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলাটি হলো ত্রিশাল থানার মামলা নং-২১(০৬)২০১১, জি.আর নং-৯০/২০১১, দায়রা মামলা নং-১০৬/২০১৫। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পি.পি. মাহফুজুর রহমান এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম কবির।
মামলায় মোট ১৬ জন আসামি ছিলেন। আদালতের রায় অনুযায়ী –
– যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ৪ জন:[১] আব্দুস সাত্তার বেপারী [জামিনে], [২] রনি [পলাতক], [৩] আলমগীর মিয়া [পলাতক] এবং [১৬] আশিকুর রহমান আশিক [পলাতক]। তাদের প্রত্যেককে দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
-খালাসপ্রাপ্ত ১১ জন:[৪] কেফায়াত আলী, [৫] হাবিবুর রহমান বেপারী, [৬] আব্দুল কাশেম, [৭] আতিকুর রহমান, [৮] এখলাছুর রহমান, [৯] হায়দার আলী, [১০] সুজন [পলাতক], [১১] বাহির উদ্দিন, [১২] খোকন, [১৩] রাকিব, [১৪] নাজিম উদ্দিন মেম্বার এবং [১৫] শহিদুল্লাহ। দণ্ডবিধির ১৪০, ৩৪১, ৩২৫, ৩০২, ১১৪, ৩৪ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।
রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আব্দুস সাত্তার বেপারীকে সাজা পরোয়ানা সহ জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
একটি ভিডিও বক্তব্যে ভিকটিমের বিস্ফোরক অভিযোগ রায়ের পর আদালত বারান্দায় সাংবাদিকদের সামনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নিহত সোহেলের ভাই, যিনি ওই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তিনি বলেন –
“২০১১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আমি ঢাকা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। আমার শরীরে এখনো প্লেট বসানো আছে, ৩২৬ ধারার সার্টিফিকেট থাকার পরেও আসামিরা খালাস পেল। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন আসামিরা ঘটনার আগেই বলছিল – ‘৪ জনের জেল হবে, যাবজ্জীবন হবে, বাকি সব খালাস পাবে, কারো ফাঁসি হবে না’। আজ আদালতের রায় হুবহু তাদের কথার মতোই হলো। তারা কিভাবে আগেই রায় জানলো? এটাই আমার জাতির কাছে, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন। এমন রায় হলে দেশে খুন-খারাবি বাড়বে।”
ভিকটিম পরিবারের দাবি, ২০১১ সালের ২৮ মে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে সোহেলকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় বাদী পক্ষ ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।