
মোঃজমির উদ্দিন
পীরগাছা(রংপুর)প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।অল্প সংখ্যক শ্রমিক পাওয়া গেলে ও তাদের দৈনিক মজুরি আটশত টাকার বেশি হওয়ার চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ফলে অনেক স্থানে পাকা ধান সময় মতো কাটতে না পেরে মাঠেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পীরগাছা উপজেলা ১৫ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান ও ভুট্টা ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে চাষ আবাদ হয়েছে।
এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ শতাংশ ফসল কাটা সম্ভব হয়েছে। বিক্ষিপ্ত ভাবে জমি কর্তন হচ্ছে এখানো কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহার তেমন শুরু করা হয়নি।
স্হানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় চলতি মৌসুমে দিন মজুরি শ্রমিকের মজুরি আটশত টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত পৌছেছে। অন্যদিকে নতুন ধানের বাজার দর মন প্রতিমাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে সীমা বদ্ধ। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরস।
কৃষকদের ভাষ্য,বোরোধান উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় শ্রমিক খাতে, জমি প্রস্তত থেকে শুরু করে ধান কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শ্রমিক প্রয়োজন হয়।কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত মজুরি কৃষকের লাভের সম্ভাবনাকে প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে।
কৈকুড়ী ইউনিয়নে মকরমপুর গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, ” প্রায় এক একর জমিতে ভুট্টা ও এক একর জমিতে বোরোধান কেটে আইলে রেখেছি। কিন্তু শ্রমিক সংকটে ঘরে তুলতে পারছি না।বৃষ্টিতে ভুট্টা ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে”। বোরো ধান ভিজছে শ্রমিক ও মাড়াই যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
কান্দি ইউনিয়নে পাঠক শিকড় কলের পাড় গ্রামের কৃষক তোজাম্মেল হক তোজা ও লেবু সরকার বলেন,”ধানের যে দাম তাতে এত বেশি মজুরি দিয়ে বোরোধান কেটলে লাভতো নেইই,খরচই উঠবে না।আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি “।শেরুডাঙ্গা এলাকায় থেকে কৃষক ও কৃষাণী নিয়ে এসেছি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বোরোধান কাটার চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা মাঠে নেমে পরিবার কে সহায়তা করছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, শ্রমিক মজুরির পাশাপাশি সেচ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে বোরো চাষ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। বিপরীতে ধানের বাজারদর কম থাকায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পীরগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে শ্রমিক সংকট, উচ্চ মজুরি ও বৈরী আবহাওয়ার ত্রিমুখী চাপে পীরগাছা কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা নিয়েই বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।