
হুমায়ুন কবির বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা,
৫ মে ২০২৬ ইং
২০২৬রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ বিষয়ক বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব:)
প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ:
সমন্বিত নিরাপত্তা: উপদেষ্টা জানান, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপত্তা কেবল সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাইবার হামলা, সন্ত্রাসবাদ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ‘Whole of Government Approach’ বা সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি।
সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক:- পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে শক্তিশালী সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে ‘জনগণের বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুর্যোগ ও সংকটকালীন সময়ে এই বাহিনীর ভূমিকা জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক।
পেশাদারিত্ব ও সংস্কার:- জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করা হয়। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, কোনো ব্যক্তি বিশেষের অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী বহন করবে না।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য:- সরকার একটি পেশাদার, দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘Total Peoples’ War’ এবং ‘স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি’র গুরুত্ব উল্লেখ করে একটি ঐক্যবদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানানো হয়।
অধিবেশনে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিজ নিজ বাহিনীর অবস্থান ও মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রত্যাশা তুলে ধরেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রতিরক্ষা সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারও উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে, “করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”–এই দর্শনকে ধারণ করে দেশের অগ্রযাত্রায় জেলা প্রশাসকদের সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।