নিজস্ব প্রতিবেদক মোহাম্মদ হানিফ ফেনী। দুপুরে বাড়িতে ঢুকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করার চেষ্টা—ধস্তাধস্তিতে খুলে যায় মুখোশ, স্থানীয়দের হাতে শনাক্ত অভিযুক্তরা ফেনীর দাগনভূঁইয়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বোরকা পরে নারী সেজে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বাড়িতে ঢুকে স্কুলছাত্রী মিথিলা ইয়াসমিনকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এসময় তারা ঘর থেকে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৬ মে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে, দাগনভূঁইয়া উপজেলার দক্ষিণ করিমপুর তরপহাজী বাড়িতে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন দুঃসাহসিক ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন মিথিলা ইয়াসমিন ও তার মা সাবিনা ইয়াসমিন। মিথিলা স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। দুপুরের নিরিবিলি সময়ে কয়েকজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা রান্নাঘরে গিয়ে মিথিলার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে ক্লোরোফর্ম ব্যবহার করে অচেতন করার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মিথিলা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এসময় হামলাকারীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে কয়েকজনের মুখোশ ও বোরকা খুলে গেলে উপস্থিত লোকজন তাদের চিনে ফেলেন বলে দাবি পরিবারের। পরিবারের অভিযোগ, তখন স্থানীয় নাসির উদ্দিন ও তার ভাইকে শনাক্ত করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা মিথিলার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে মারধর করে আহত করে এবং মিথিলাকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে স্থানীয়দের উপস্থিতি বাড়তে থাকলে অপহরণচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ঘরে থাকা প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার। আহত সাবিনা ইয়াসমিনকে পরে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখানে তারা নাসির উদ্দিন গংয়ের বিরুদ্ধে অপহরণচেষ্টা, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেন, “নাসির উদ্দিনের অত্যাচারে দক্ষিণ করিমপুর এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার চাই।” এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে “পরিকল্পিত অপহরণচেষ্টা” হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ঘটনার পর থেকে পুরো দক্ষিণ করিমপুর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
99
নিজস্ব প্রতিবেদক মোহাম্মদ হানিফ ফেনী।
দুপুরে বাড়িতে ঢুকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করার চেষ্টা—ধস্তাধস্তিতে খুলে যায় মুখোশ, স্থানীয়দের হাতে শনাক্ত অভিযুক্তরা
ফেনীর দাগনভূঁইয়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বোরকা পরে নারী সেজে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বাড়িতে ঢুকে স্কুলছাত্রী মিথিলা ইয়াসমিনকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এসময় তারা ঘর থেকে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৬ মে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে, দাগনভূঁইয়া উপজেলার দক্ষিণ করিমপুর তরপহাজী বাড়িতে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন দুঃসাহসিক ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন মিথিলা ইয়াসমিন ও তার মা সাবিনা ইয়াসমিন। মিথিলা স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। দুপুরের নিরিবিলি সময়ে কয়েকজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা রান্নাঘরে গিয়ে মিথিলার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে ক্লোরোফর্ম ব্যবহার করে অচেতন করার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মিথিলা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এসময় হামলাকারীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে কয়েকজনের মুখোশ ও বোরকা খুলে গেলে উপস্থিত লোকজন তাদের চিনে ফেলেন বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, তখন স্থানীয় নাসির উদ্দিন ও তার ভাইকে শনাক্ত করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা মিথিলার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে মারধর করে আহত করে এবং মিথিলাকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়।
তবে স্থানীয়দের উপস্থিতি বাড়তে থাকলে অপহরণচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ঘরে থাকা প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।
আহত সাবিনা ইয়াসমিনকে পরে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখানে তারা নাসির উদ্দিন গংয়ের বিরুদ্ধে অপহরণচেষ্টা, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেন,
“নাসির উদ্দিনের অত্যাচারে দক্ষিণ করিমপুর এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে “পরিকল্পিত অপহরণচেষ্টা” হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পর থেকে পুরো দক্ষিণ করিমপুর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।