1. mdrouf834@gmail.com : দৈনিকবাংলাদেশপত্রিকা : দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকা
  2. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
Title :
টেকনাফে মানবপাচারকারী দলের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনাকালে সন্ত্রাসীদের সাথে গুলি বিনিময়ঃ সেনাসদস্য নিহত মদনে ইজি বাইক উল্টে এক নারী নিহত। কটিয়াদীতে গভীর রাতে মালবাহী ট্রাক উল্টে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, আহত চালক-হেলপার নবীনগরে অ্যাডভোকেট রফিকুল হোসেনের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত কটিয়াদীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে উপজেলা জামায়াতের গণসংবর্ধনা কালুরঘাট সেতুর দুই পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে অবৈধ বালুর কারবার চন্দনাইশের মাজার পয়েন্ট সেতুর ওপর (বরুমতি ব্রিজ) থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক ব্যক্তি কে উদ্ধার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পীরগাছায় ভাবীর চুল ছিঁড়ে গলা টিপে হত্যাচেষ্টা, আহত ৩, থানায় এজাহার সন্ত্রাস , মাদক, কিশোর গ্যাং দমন করতে বাকলিয়া থানায় ওসি শাহিনুরের জোরদার অভিযান নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান গেল অনার্স পড়ুয়া এক মেধাবী ছাত্রের।

শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান: কোথায় তৈরি হচ্ছে বৈষম্য

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ১৪৫ Time View
220

মনিম হাসান অমি
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শিক্ষা সম্পন্ন করার পরও অনেক তরুণ-তরুণী কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না। ফলে শিক্ষিত বেকারত্ব দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানের পথে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে কোথায়
বিশেষজ্ঞদের মতে,শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের চাহিদার মধ্যে অসামঞ্জস্যই এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো প্রচলিত পাঠ্যক্রম ও তাত্ত্বিক জ্ঞানের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ বর্তমান চাকরির বাজারে প্রয়োজন বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং যোগাযোগ দক্ষতা। ফলে অনেক শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করলেও কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতায় পিছিয়ে থাকে।
অন্যদিকে, চাকরির বাজারও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডাটা অ্যানালিটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিভিন্ন কারিগরি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশ এখনো সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। এর ফলে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান এবং নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশার মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো চাকরিপ্রত্যাশীদের মানসিকতা ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা। অনেক শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট কিছু সরকারি বা করপোরেট চাকরির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল। ফলে বিকল্প পেশা, উদ্যোক্তা হওয়া কিংবা দক্ষতাভিত্তিক কাজের প্রতি আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। অন্যদিকে চাকরির সংখ্যা সীমিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক প্রার্থী একই ধরনের পদের জন্য প্রতিযোগিতা করে, যা কর্মসংস্থানের সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে।
এ ছাড়া শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। উন্নত দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ, গবেষণা এবং বাস্তব কর্মপরিবেশে কাজ করার সুযোগ পায়। বাংলাদেশে এমন সুযোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির বাজারে প্রবেশ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।
এই বৈষম্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও কম নয়। দীর্ঘ সময় বেকার থাকার কারণে অনেক তরুণ হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকটে ভোগেন। পরিবারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ে এবং দেশের মানবসম্পদের একটি বড় অংশ কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। একই সঙ্গে শিক্ষায় বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফলও অনেক ক্ষেত্রে অর্জিত হয় না।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও দক্ষতাভিত্তিক করতে হবে। পাঠ্যক্রমে প্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব এবং বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময়ই কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। তৃতীয়ত, কারিগরি ও পেশাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, শিক্ষিত বেকারত্ব শুধু চাকরির অভাবের সমস্যা নয়; এটি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধানেরও প্রতিফলন। শিক্ষার লক্ষ্য যদি কর্মজীবনের জন্য উপযুক্ত মানবসম্পদ তৈরি করা হয়, তবে শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। অন্যথায় প্রতিবছর নতুন নতুন ডিগ্রিধারী তরুণ যুক্ত হলেও কর্মসংস্থানের সংকট আরও গভীর হতে থাকবে। শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানের এই বৈষম্য দূর করতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং তরুণ সমাজ—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাহলেই শিক্ষা সত্যিকার অর্থে কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2026