1. mdrouf834@gmail.com : দৈনিকবাংলাদেশপত্রিকা : দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকা
  2. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
Title :
টেকনাফে মানবপাচারকারী দলের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনাকালে সন্ত্রাসীদের সাথে গুলি বিনিময়ঃ সেনাসদস্য নিহত মদনে ইজি বাইক উল্টে এক নারী নিহত। কটিয়াদীতে গভীর রাতে মালবাহী ট্রাক উল্টে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, আহত চালক-হেলপার নবীনগরে অ্যাডভোকেট রফিকুল হোসেনের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত কটিয়াদীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে উপজেলা জামায়াতের গণসংবর্ধনা কালুরঘাট সেতুর দুই পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে অবৈধ বালুর কারবার চন্দনাইশের মাজার পয়েন্ট সেতুর ওপর (বরুমতি ব্রিজ) থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক ব্যক্তি কে উদ্ধার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পীরগাছায় ভাবীর চুল ছিঁড়ে গলা টিপে হত্যাচেষ্টা, আহত ৩, থানায় এজাহার সন্ত্রাস , মাদক, কিশোর গ্যাং দমন করতে বাকলিয়া থানায় ওসি শাহিনুরের জোরদার অভিযান নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান গেল অনার্স পড়ুয়া এক মেধাবী ছাত্রের।

‎সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও মোংলা বন্দর সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের কঠোর অবস্থান: জয়মনির ঘোল হামলায় তোলপাড়

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ৬৬ Time View
124

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট
‎সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের চলমান বিশেষ অভিযানে বনদস্যুরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে, যার জেরে সম্প্রতি জয়মনির ঘোল স্টেশনে হামলার ঘটনা
‎সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন এবং মোংলা বন্দরের নৌপথের সুরক্ষা বিধানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন অত্যন্ত কঠোর ও পেশাদার ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে দস্যুতা নির্মূলে পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ কার্যক্রম উপকূলীয় জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক অভিযানে কোস্ট গার্ড ৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং ওয়াকিটকিসহ ৩৯ জন বনদস্যুকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। একই সাথে দস্যুদের জিম্মি দশা থেকে ৪১ জন বনজীবীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সফল অভিযানগুলোর ফলে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ তার সহযোগীরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে, যা এই অঞ্চলের অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
‎
‎কোস্ট গার্ডের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বনদস্যু ও অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ায় তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের অপরাধের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ডের নতুন স্টেশন স্থাপনের পর থেকেই দস্যুদের রসদ সরবরাহ ও লজিস্টিক সহায়তা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে জয়মনির ঘোল স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়, যাতে কোস্ট গার্ডের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। স্থানীয় বনজীবী ও সাধারণ মানুষের মতে, দস্যুদের আধিপত্য হারানোর ক্ষোভ থেকেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাটি উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পুনরায় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে এবং অপরাধীদের দমনে আরও কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। ভুক্তভোগী জেলে ও বাওয়ালিদের মতে, কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি না থাকলে এই অঞ্চলে পুনরায় দস্যুদের অভয়ারণ্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
‎
‎হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোনো প্রকার হামলা বা অপপ্রচার বাহিনীর মনোবল ভাঙতে পারবে না। বর্তমানে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে এবং জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য ও মৎস্য সম্পদের প্রজনন রক্ষায় পর্যটন নিষেধাজ্ঞাসহ অবৈধ মাছ আহরণ ও বন্যপ্রাণী পাচার রোধে কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করা হয়েছে। মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা ও বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকল রুট সচল রাখার ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। আধুনিক ড্রোন ও সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে উপকূলীয় সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ও অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
‎
‎সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই লড়াই কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষার সাথে সরাসরি জড়িত। জয়মনির ঘোল স্টেশনে হামলার ঘটনাটি কোস্ট গার্ডের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করলেও, এটি তাদের অপারেশনাল সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে উপকূলীয় অঞ্চলে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য চিরতরে মুছে ফেলতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত অভিযানের কোনো বিকল্প নেই। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং বনজীবীদের জীবিকা নির্বাহের পথ নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ডের এই নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও পরিবেশগত নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‎

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2026