
মোঃজমির উদ্দিন
পীরগাছা (রংপুর)প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নে পাঠক শিকড় গ্রামে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী পাঠক শিকড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত। ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
জানা যায়, ভবানী পাঠক নাম অনুসারে পাঠক শিকড় গ্রামের মরহুম এনায়েত উল্ল ব্যাপারী বিদ্যালয়টির জন্য জমি দান করেন। এছাড়া কান্দি ইউনিয়নের তৎকালীন স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।শিক্ষার মান ও ভালো ফলাফলের কারণে বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে। একসময় সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পদচারণায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকলেও বর্তমানে প্রায় ১২৩ জন শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে। এখনো বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে এবং সচেতন অভিভাবকদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের ওয়াশ রুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে ওয়াশ রুমটি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়া বিদ্যালয়ে প্রবেশের প্রধান সড়কে দীর্ঘসময় নোংরা পানি জমে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের পায়ে চুলকানিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দেখা দেয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ,স্কুলের পুকুর হলো বিপদ জনক অবস্হা নেই কোন গাইড ওয়াল না থাকার কারণে স্কুলের নতুন ভবন ঝুঁকি পূর্ণ, ছাত্র /ছাত্রী পুকুরে পানিতে ডুবে মৃত্যু ঝুঁকি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের পুকুর দ্রুত ভরাট ও গাইড ওয়াল কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ এবং প্রবেশপথ ও ওয়াশ রুম সংস্কার করা জরুরি।
পাঠক শিকড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে, বর্তমানে শিক্ষক আছে ৪ জন,প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক, সহকারী শিক্ষক, নুরে আলম সিদ্দিকী, আলমগীর হোসেন, আখতার জাহান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।