
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় বোরো মৌসুমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক কৃষকদের চাষাবাদে উৎসাহিত করতে দ্বিতীয় ধাপে সরকারি কৃষি ভর্তুকি বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক কৃষকের হাতে কৃষি সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি এনায়েতুল্লাহ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসলিম উদ্দিন রতন। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের জন্য এ ধরনের সহায়তা অত্যন্ত কার্যকর। তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।
ভর্তুকি গ্রহণকারী কৃষকরা জানান, কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষাবাদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হচ্ছে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের ভর্তুকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আরও বেশি কৃষককে এর আওতায় আনার দাবি জানান।
একজন কৃষক বলেন, সরকারি সহায়তা নিয়মিত পেলে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। বক্তারা সময়মতো জমির পরিচর্যা, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা জানান, সরকারের কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে যোগ্য কৃষকদের মধ্যে ভর্তুকি বিতরণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে বোরো ধানের আবাদ সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, কৃষিবান্ধব এ উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং কৃষকদের আস্থা ও আগ্রহ বাড়িয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।