
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টিউশনি শেষে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সিঁথি সীমিতা (২৮) নামে এক স্কুলশিক্ষকের ওপর দা দিয়ে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তার মাথায় একাধিক গভীর আঘাত লাগে এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রীর মা প্রিয়া বেগমকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি সোমবার সকালে ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে ঘটে। পরে শিক্ষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গত তিন মাস ধরে তিনি প্রিয়া বেগমের সন্তানকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন। মাসিক এক হাজার ৫০০ টাকা পারিশ্রমিকের বিপরীতে কয়েক মাসের বকেয়া টাকা চাইলে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার প্রতিদিনের মতো পড়ানো শেষে বের হওয়ার সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ধারালো দা দিয়ে সিঁথির ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। দরজায় অতিরিক্ত ছিটকিনি লাগানো থাকায় তিনি বের হতে পারেননি। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তার মাথায় ১০টি গভীর কোপের ক্ষত রয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি সীমিতা দাবি করেন, হামলার সময় তার গলায়, হাতে ও কানে স্বর্ণালংকার ছিল। অভিযুক্ত হামলার সময় সেসব স্বর্ণ দিতে চাপ দেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মামলার বাদী শিশু মিয়া বলেন, ঘটনাটি শুধু টিউশনির বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধ নয়; স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টাও হতে পারে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।
এদিকে, ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির জানান, হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।