
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গরু চুরি প্রতিরোধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি চুরি যাওয়া গরুও উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কটিয়াদী উপজেলার একটি এলাকা থেকে একটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোরচক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে চোরচক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গরুটি আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা গরু চুরির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া এই চক্রের আরও কয়েকজন সদস্যের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতার এবং চুরি হওয়া বাকি গরু উদ্ধারে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় গরু চুরির কয়েকটি ঘটনা ঘটায় খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে রাতের বেলায় গরুর খামার ও গোয়ালঘর নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছিলেন অনেকেই। পুলিশের এই সফল অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গরু চুরি কিংবা যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণকে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, চোরচক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে তাদের অপরাধের নেটওয়ার্ক, সহযোগী এবং চোরাই গরু বিক্রির সম্ভাব্য স্থানগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এ ঘটনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, গরু চুরি রোধে পুলিশের পাশাপাশি খামারি ও সাধারণ মানুষেরও সতর্ক থাকতে হবে। গোয়ালঘরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাতের পাহারা এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের চলাচলের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে চোরচক্রের অন্য সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বাকি চোরাই গরু উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।