মিঠামইনে কুপিয়ে হত্যা বিএনপি নেতা জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে, আহত আরও একজন
Reporter Name
Update Time :
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
৪১
Time View
মিঠামইনে কুপিয়ে হত্যা বিএনপি নেতা জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে, আহত আরও একজন
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বিএনপি নেতা জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার ‘বাগানবাড়ি’ নামের তার নিজ বাসভবনের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াও গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে মিঠামইন বাজারে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক কিছু কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি কোপ দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া তাকে উদ্ধার করতে গেলে দুর্বৃত্তরা তার ওপরও হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয় বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিশ্চিত করেন। অপরদিকে আহত হাদিস মিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও এলাকাবাসী হাসপাতালে এবং তার বাড়িতে ভিড় করেন। আকস্মিক এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং উপজেলা পর্যায়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। তবে সম্প্রতি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক সব পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। যদিও ওই সিদ্ধান্তের পরও তিনি এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হত্যার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য কোনো কারণ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারেরও আহ্বান জানান। এদিকে, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর মিঠামইনজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।
79
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বিএনপি নেতা জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার ‘বাগানবাড়ি’ নামের তার নিজ বাসভবনের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াও গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে মিঠামইন বাজারে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক কিছু কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি কোপ দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া তাকে উদ্ধার করতে গেলে দুর্বৃত্তরা তার ওপরও হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয় বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিশ্চিত করেন। অপরদিকে আহত হাদিস মিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও এলাকাবাসী হাসপাতালে এবং তার বাড়িতে ভিড় করেন। আকস্মিক এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং উপজেলা পর্যায়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। তবে সম্প্রতি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক সব পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। যদিও ওই সিদ্ধান্তের পরও তিনি এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হত্যার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য কোনো কারণ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারেরও আহ্বান জানান।
এদিকে, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর মিঠামইনজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।