1. mdrouf834@gmail.com : দৈনিকবাংলাদেশপত্রিকা : দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকা
  2. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
Title :
টেকনাফে মানবপাচারকারী দলের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনাকালে সন্ত্রাসীদের সাথে গুলি বিনিময়ঃ সেনাসদস্য নিহত মদনে ইজি বাইক উল্টে এক নারী নিহত। কটিয়াদীতে গভীর রাতে মালবাহী ট্রাক উল্টে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, আহত চালক-হেলপার নবীনগরে অ্যাডভোকেট রফিকুল হোসেনের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত কটিয়াদীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে উপজেলা জামায়াতের গণসংবর্ধনা কালুরঘাট সেতুর দুই পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে অবৈধ বালুর কারবার চন্দনাইশের মাজার পয়েন্ট সেতুর ওপর (বরুমতি ব্রিজ) থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক ব্যক্তি কে উদ্ধার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পীরগাছায় ভাবীর চুল ছিঁড়ে গলা টিপে হত্যাচেষ্টা, আহত ৩, থানায় এজাহার সন্ত্রাস , মাদক, কিশোর গ্যাং দমন করতে বাকলিয়া থানায় ওসি শাহিনুরের জোরদার অভিযান নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান গেল অনার্স পড়ুয়া এক মেধাবী ছাত্রের।

বাসস্ট্যান্ডের নাম নিয়ে ভৈরবে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দাবি, নিহত ৪ বলে স্থানীয় সূত্রের তথ্য, আহত শতাধিক

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৬ Time View
98

মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রশাদ ইউনিয়নে একটি বাসস্ট্যান্ডের নামকরণকে কেন্দ্র করে আকবর নগর ও মিরার চর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত ও আহতের সংখ্যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডের নাম নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষ বাসস্ট্যান্ডটির নাম “আকবর নগর” রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়, অন্য পক্ষ “মিরার চর” নাম বহাল রাখার দাবি জানায়। বিষয়টি নিয়ে অতীতেও কয়েক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও তা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে প্রথমে উভয় পক্ষের কয়েকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের সময় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে সংঘর্ষের খবর দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সম্ভাব্য নতুন সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সংঘর্ষের কারণে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক পরিবার নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঘর থেকে বের হতে পারেনি।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও স্থানীয় বিরোধের সঙ্গে বাসস্ট্যান্ডের নামকরণের বিষয়টি যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ছোট একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রাণহানি ও ব্যাপক সহিংসতা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবার উদ্যোগ প্রয়োজন।
আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে আহতদের স্বজনদের ভিড় দেখা গেছে। চিকিৎসকরা গুরুতর আহতদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বলে জানা গেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিরোধের বিষয়টি আগে থেকেই প্রশাসনের নজরে থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে হয়তো এত বড় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হতো। অন্যদিকে, কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল এবং সামান্য উসকানিতেই পরিস্থিতি বিস্ফোরিত হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর পুরো কালিকাপ্রশাদ ইউনিয়নে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহতদের স্বজনদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, স্থানীয় বিরোধ বা নামকরণসংক্রান্ত মতপার্থক্য কখনোই সহিংসতার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে না। আলোচনা, পারস্পরিক সমঝোতা এবং প্রশাসনের মধ্যস্থতায় এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তি করা উচিত। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা, হতাহতের সঠিক সংখ্যা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2026