
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ দিবস-২০২৬ উদযাপনকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দিবসটি ঘিরে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইয়াসিন খন্দকার। তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ দিবসটি উদযাপনে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ শাহাদাত হোসেন শাহ আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আদনান আখতার, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন এবং সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম।
এছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ইফতি আব্দুল্লাহর মা, শহীদ মাহমুদুল হাসান জয়ের বাবা, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় জুলাই যোদ্ধা, সাংবাদিক এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেন।
আলোচনায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। সেই চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় দিবসটি উপলক্ষে গ্রহণযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি কর্মসূচিগুলো সফল করতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কুলিয়ারচরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের বার্তা আরও সুদৃঢ়ভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।