
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
চলন্ত আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে এসি কোচের যন্ত্রাংশ চুরির সময় দুই যুবককে আটক করেছে ট্রেনের নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর রেলস্টেশনে ট্রেন থামিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়। ঘটনাটি বুধবার রাতের দিকে ঘটে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিজয় এক্সপ্রেসটি কিশোরগঞ্জের দিকে যাওয়ার পথে ট্রেনের একটি এসি কোচে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা। কোচের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে তারা দেখতে পান, এসি ইউনিটের কিছু যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নামেন।
এ সময় দুই যুবক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করেন। ট্রেনটি কুলিয়ারচর স্টেশনে পৌঁছালে নিরাপত্তাকর্মীরা স্টেশন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান এবং স্থানীয় কয়েকজন যাত্রীর সহায়তায় ওই দুই যুবককে আটক করতে সক্ষম হন। পরে তাদের কাছ থেকে এসির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্টেশন সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার করা যন্ত্রাংশগুলো সংশ্লিষ্ট কোচের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি কুলিয়ারচরে থামার পর কিছুক্ষণ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাকর্মীরা যাত্রীদের শান্ত থাকতে অনুরোধ করেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আটক দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলেন, চলন্ত ট্রেনে এসি ইউনিটের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে শুধু রেলওয়ের আর্থিক ক্ষতিই হয় না, যাত্রীসেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেনে যন্ত্রাংশ চুরির কয়েকটি অভিযোগ পাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
কুলিয়ারচর রেলস্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতা এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার কারণে দ্রুত অভিযুক্তদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই যুবকের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেক যাত্রী নিরাপত্তাকর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, চলন্ত ট্রেনে এমন ঘটনা উদ্বেগের হলেও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ট্রেনে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত নিরাপত্তাকর্মী বা রেলওয়ে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।