
পবিত্র রমজান মাসে সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফের ১০ কেজি চাল নিতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়ন পরিষদে নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ টাকার এই চাল নিতে এসে অনেকেই অভিযোগ করেছেন—বরাদ্দের কিছু চাল আগেই পাচার হয়ে গেছে। যদিও পরবর্তীতে কিছু চাল ফেরত আনা হয়েছে বলে জানা গেছে, তবে পুরোটা ফেরেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক প্রকৃত উপকারভোগী চাল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে বহরা ইউনিয়নে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, চাল চুরির প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের লোকজনের হামলায় আহত হয়েছেন এক হতদরিদ্র গ্রাহক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহরা ইউনিয়নের বাসিন্দা সোহেল মিয়া নামের এক দরিদ্র ব্যক্তি চাল বিতরণে অনিয়ম ও সরকারি চাল চুরির প্রতিবাদ করেন। এ সময় উপস্থিত ট্যাগ অফিসার ও প্রশাসনের সামনেই তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বহরা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সেলিনা আক্তার এবং প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি চাল চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, সরকারি সহায়তার চাল নিয়ে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় একজন অসহায় মানুষকে এভাবে মারধর করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার, পিআইও অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করুক এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক ।