জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সম্মাননা জানাল প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
Update Time :
বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
৯৩
Time View
জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সম্মাননা জানাল প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণ এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস, জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য এবং আত্মত্যাগকারীদের অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং যারা রাজপথে থেকে আন্দোলনকে সফল করেছেন, তাদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জুলাই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং এই আন্দোলনের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। এ সংগ্রামে অসংখ্য মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের সেই অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাত হোসেন শাহ আলম। বক্তারা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে পথ তৈরি হয়েছে, সেখানে জুলাই আন্দোলনের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তারা শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। পাশাপাশি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধাদের সাহসিকতারও প্রশংসা করেন তারা। আলোচনা পর্ব শেষে জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা। একই সঙ্গে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী জুলাই যোদ্ধাদেরও সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত নেতাকর্মীরা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের স্মরণ করে আবেগ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে জুলাই যোদ্ধারাও আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এদিন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম কুলিয়ারচর পৌর এলাকার গাইলকাটা ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে তিনি এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণ এবং আন্দোলনের যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বক্তারা সবাই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
123
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণ এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস, জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য এবং আত্মত্যাগকারীদের অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং যারা রাজপথে থেকে আন্দোলনকে সফল করেছেন, তাদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জুলাই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং এই আন্দোলনের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। এ সংগ্রামে অসংখ্য মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের সেই অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাত হোসেন শাহ আলম।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে পথ তৈরি হয়েছে, সেখানে জুলাই আন্দোলনের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তারা শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। পাশাপাশি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধাদের সাহসিকতারও প্রশংসা করেন তারা।
আলোচনা পর্ব শেষে জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা। একই সঙ্গে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী জুলাই যোদ্ধাদেরও সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত নেতাকর্মীরা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের স্মরণ করে আবেগ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে জুলাই যোদ্ধারাও আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
এদিন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম কুলিয়ারচর পৌর এলাকার গাইলকাটা ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে তিনি এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণ এবং আন্দোলনের যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বক্তারা সবাই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।