বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষককে চাপা, কটিয়াদীতে কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক্টর সংঘর্ষে আহত ২
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
Update Time :
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
৩৭
Time View
বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষককে চাপা, কটিয়াদীতে কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক্টর সংঘর্ষে আহত ২
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় কাভার্ড ভ্যান ও হালচাষে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কটিয়াদী পৌরসভার দড়ি-চরিয়াকোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজন কৃষকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতরা হলেন দড়ি-চরিয়াকোনা এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে মজলু মিয়া (৬৫) এবং নরসিংদীর বেলাব উপজেলার লতিফপুর এলাকার সানি রেজুয়ান আহমদের মেয়ে হাফসা বেগম (৩২)। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভৈরবগামী একটি দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যান বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাক্টরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় কাভার্ড ভ্যানটির পেছনে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে। এতে অটোরিকশায় থাকা যাত্রী হাফসা বেগম আহত হন। একই সময়ে সড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন কৃষক মজলু মিয়া। নিয়ন্ত্রণ হারানো কাভার্ড ভ্যানটি তাঁকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার আঘাতে তাঁর কোমরের নিচের অংশ ও দুই পায়ে ভয়াবহ জখম হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মজলু মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্যদিকে আহত হাফসা বেগমকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুজন মিয়া জানান, মজলু মিয়া বিকেলে নিজের জমি থেকে নেপিয়ার ঘাস কেটে বাড়িতে ফিরেছিলেন। বাড়ির সামনে পৌঁছে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারানো কাভার্ড ভ্যানটি তাঁর ওপর উঠে যায়। এতে তাঁর দুই পা কোমরের নিচের অংশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পরে সড়কে যান চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়। কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনায় একজনের অবস্থা গুরুতর বলে তারা জানতে পেরেছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যানটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে চালকের দায় বা অন্য কোনো অবহেলার বিষয়টি নিশ্চিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের এ অংশে প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল করে। ফলে ছোট যানবাহন, কৃষিযন্ত্র এবং পথচারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়। তাঁদের দাবি, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এদিকে দুর্ঘটনার পর আহতদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মজলু মিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসী গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
71
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় কাভার্ড ভ্যান ও হালচাষে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কটিয়াদী পৌরসভার দড়ি-চরিয়াকোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজন কৃষকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হলেন দড়ি-চরিয়াকোনা এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে মজলু মিয়া (৬৫) এবং নরসিংদীর বেলাব উপজেলার লতিফপুর এলাকার সানি রেজুয়ান আহমদের মেয়ে হাফসা বেগম (৩২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভৈরবগামী একটি দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যান বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাক্টরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় কাভার্ড ভ্যানটির পেছনে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে। এতে অটোরিকশায় থাকা যাত্রী হাফসা বেগম আহত হন।
একই সময়ে সড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন কৃষক মজলু মিয়া। নিয়ন্ত্রণ হারানো কাভার্ড ভ্যানটি তাঁকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার আঘাতে তাঁর কোমরের নিচের অংশ ও দুই পায়ে ভয়াবহ জখম হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মজলু মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্যদিকে আহত হাফসা বেগমকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুজন মিয়া জানান, মজলু মিয়া বিকেলে নিজের জমি থেকে নেপিয়ার ঘাস কেটে বাড়িতে ফিরেছিলেন। বাড়ির সামনে পৌঁছে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারানো কাভার্ড ভ্যানটি তাঁর ওপর উঠে যায়। এতে তাঁর দুই পা কোমরের নিচের অংশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
এ দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পরে সড়কে যান চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়।
কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনায় একজনের অবস্থা গুরুতর বলে তারা জানতে পেরেছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যানটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে চালকের দায় বা অন্য কোনো অবহেলার বিষয়টি নিশ্চিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের এ অংশে প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল করে। ফলে ছোট যানবাহন, কৃষিযন্ত্র এবং পথচারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়। তাঁদের দাবি, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
এদিকে দুর্ঘটনার পর আহতদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মজলু মিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসী গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।