
কামরুল০১৮৮৩০৮৮০৮৪
চট্টগ্রামে স্থানীয় সরকারের তিনটি নির্বাচন (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা) ঘিরে উপজেলা সদর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হালকা নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে হয়তোবা আগামী ২৫ / ২৬ তারিখ প্রথম ধাপ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হতে পারে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপর সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার নয় ইউনিয়নের মধ্যে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।আমিরাবাদ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে তৃণমূল জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে এই আলোচনার উপর ভিত্তি করে আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী মাঠ থেকে অনেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বলেন জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন শুধু তাই নয় তিনি তিন বার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার ছিলেন জাহাঙ্গীর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন সেই সুবাদে তিনি জনগণের মনের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন তার বিপক্ষে নির্বাচন করার অর্থ বোকামি করা তার চাইতে আগে ভাগে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও শতন্ত্র সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়েছেন।
চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা, ১৫ পৌরসভা ও ১৯৪ ইউনিয়নের মধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকায় খবর নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং পৌরসভাগুলোর সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা প্রায় প্রতিদিন এলাকায় যাচ্ছেন। এলাকাভিত্তিক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়মিত এলাকায় বসছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক–মানবিক ও ধর্মীয় কাজে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন। এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতিও। অনেকেই নগরীর অভিজাত হোটেলেও বসার খবর রয়েছে।
সমপ্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও স্থানীয় সরকারে নির্বাচনের প্রসু্ততি শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসে খবর নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ভোটকেন্দ্র গুলো পরিদর্শন করে তার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ভোটার তালিকাও।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা সবকিছু গুছিয়ে রাখছি। ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করছি।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলায় ১৫ উপজেলা এবং ১৯৪টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভা রয়েছে ১৫টি।উপজেলাগুলো হল– মীরসরাই, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী।
পৌরসভাগুলো হলো– মীরসরাই পৌরসভা, বারইয়ারহাট পৌরসভা, সন্দ্বীপ পৌরসভা, পটিয়া পৌরসভা, রাউজান পৌরসভা, সাতকানিয়া পৌরসভা, বাঁশখালী পৌরসভা, চন্দনাইশ পৌরসভা, সীতাকুণ্ড পৌরসভা, হাটহাজারী পৌরসভা, দোহাজারী পৌরসভা, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা, বোয়ালখালী পৌরসভা, ফটিকছড়ি পৌরসভা ও নাজিরহাট পৌরসভা।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছেন : সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনার কথা বলেছেন।
পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন–এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে দিয়েছেন। এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতিও। বলতে গেলে জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকারের এই তিনটি নির্বাচনকে ঘিরে এখন উপজেলা সদর থেকে গ্রামীণ জনপদে হালকা হালকা নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
ইসির পরিকল্পনায় আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন : স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রস্তুতির ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোন নির্বাচন আগে হবে, সেটা খুব বড় বিষয় না। আলাপ–আলোচনা চলছে, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বড় পরিবর্তন আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে : জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ, ইভিএম ব্যবহার না করা, পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল, প্রার্থীদের জামানত বাড়ানো এবং দলীয় প্রতীকের বদলে নির্দলীয়ভাবে ভোট আয়োজনসহ বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এছাড়া অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল, ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হতে না দেওয়া, নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার মতো সিদ্ধান্তের দিকেও এগোচ্ছে ইসি।