মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বড়খারচর রেলক্রসিংয়ের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে নিহত ব্যক্তি কীভাবে রেললাইনে এলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তার শরীরে কোনো পোশাক না থাকায় ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনটি বড়খারচর এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় রেললাইনের ওপর থাকা ওই ব্যক্তি ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। এ কারণে তিনি কীভাবে সেখানে পৌঁছেছেন, তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, তিনি হয়তো চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে রেললাইনে চলে আসেন। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে তিনি নিচে পড়ে থাকতে পারেন। তবে এসব ধারণার পক্ষে এখনো কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে রয়েছে বড়খারচর রেলক্রসিং। দুর্ঘটনার সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন গেটম্যান প্রকাশ কুমার দাশ। তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। ট্রেন আসার আগে নিয়ম অনুযায়ী তিনি রাস্তার দুই পাশের ব্যারিকেড নামিয়ে দেন। সে সময় রেললাইনের আশপাশে কাউকে দেখতে পাননি। প্রকাশ কুমার দাশ বলেন, রেললাইনে কেউ অবস্থান করলে সাধারণত ট্রেন থেকে একাধিকবার হর্ন দেওয়ার কথা। কিন্তু ওই ট্রেনটি যাওয়ার সময় তিনি কোনো হর্ন শুনতে পাননি। তার ভাষ্য, ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবে রেললাইনে থাকা কোনো পথচারীর দুর্ঘটনা কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় তার ধারণা, ওই ব্যক্তি হয়তো ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে থাকতে পারেন। তবে গেটম্যানের এই ধারণারও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি দুর্ঘটনার আগে কোথায় ছিলেন, কীভাবে রেললাইনে এলেন এবং তার শরীরে কোনো পোশাক ছিল না কেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে ঘটনার পর নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা কি না, নাকি অন্য কোনো এলাকা থেকে এসেছিলেন, সেটিও এখনো জানা যায়নি। তার সঙ্গে কোনো পরিচয়পত্র বা এমন কোনো সামগ্রী পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান জানান, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। খবর পাওয়ার পর রেলওয়ে পুলিশের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। ওসি বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তি কীভাবে রেললাইনে এলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্টদের অনুসন্ধানে দুর্ঘটনাটি নিছক অসাবধানতার কারণে ঘটেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—তা স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হলে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় বড়খারচর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি ধারণাকে সত্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
64
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বড়খারচর রেলক্রসিংয়ের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে নিহত ব্যক্তি কীভাবে রেললাইনে এলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তার শরীরে কোনো পোশাক না থাকায় ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনটি বড়খারচর এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় রেললাইনের ওপর থাকা ওই ব্যক্তি ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। এ কারণে তিনি কীভাবে সেখানে পৌঁছেছেন, তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, তিনি হয়তো চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে রেললাইনে চলে আসেন। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে তিনি নিচে পড়ে থাকতে পারেন। তবে এসব ধারণার পক্ষে এখনো কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে রয়েছে বড়খারচর রেলক্রসিং। দুর্ঘটনার সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন গেটম্যান প্রকাশ কুমার দাশ। তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। ট্রেন আসার আগে নিয়ম অনুযায়ী তিনি রাস্তার দুই পাশের ব্যারিকেড নামিয়ে দেন। সে সময় রেললাইনের আশপাশে কাউকে দেখতে পাননি।
প্রকাশ কুমার দাশ বলেন, রেললাইনে কেউ অবস্থান করলে সাধারণত ট্রেন থেকে একাধিকবার হর্ন দেওয়ার কথা। কিন্তু ওই ট্রেনটি যাওয়ার সময় তিনি কোনো হর্ন শুনতে পাননি। তার ভাষ্য, ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবে রেললাইনে থাকা কোনো পথচারীর দুর্ঘটনা কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় তার ধারণা, ওই ব্যক্তি হয়তো ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে থাকতে পারেন।
তবে গেটম্যানের এই ধারণারও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি দুর্ঘটনার আগে কোথায় ছিলেন, কীভাবে রেললাইনে এলেন এবং তার শরীরে কোনো পোশাক ছিল না কেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ঘটনার পর নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা কি না, নাকি অন্য কোনো এলাকা থেকে এসেছিলেন, সেটিও এখনো জানা যায়নি। তার সঙ্গে কোনো পরিচয়পত্র বা এমন কোনো সামগ্রী পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান জানান, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। খবর পাওয়ার পর রেলওয়ে পুলিশের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।
ওসি বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তি কীভাবে রেললাইনে এলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্টদের অনুসন্ধানে দুর্ঘটনাটি নিছক অসাবধানতার কারণে ঘটেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—তা স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হলে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় বড়খারচর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি ধারণাকে সত্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।