
কামরুল০১৮৮৩০৮৮০৮৪
চাম্বল-নাপোড়া ছড়ার পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীর শেখেরখীল প্লাবিত, দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী
সোমবার ও মঙ্গলবারের অবিরাম বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালী উপজেলার ১২নং (ক) শেখেরখীল ইউনিয়নের চাম্বল ও নাপোড়া ছড়ার পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঢলের পানিতে শেখেরখীলের অভ্যন্তরীণ সড়ক, ঘাট ও কালভার্ট তলিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশেষ করে নাপোড়া বাজার থেকে শেখেরখীল দারুচ্ছালাম মাদরাসা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বেহাল দশা জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দুই বছর পূর্বে সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও অদৃশ্য কারণে ঠিকাদার এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারের কাজের অনিয়ম ও নিম্নমানের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকবার প্রশ্ন উঠেছে। গত ২০২৫ সালে নাপোড়া শেখেরখীল হাইস্কুলের দক্ষিণে যে স্থানে রাস্তা ভেঙেছিল, ঠিক একই স্থানে এ বছর আবারো ভেঙে গিয়ে পুরো হিন্দুপাড়া প্লাবিত হয়েছে। এতে বর্তমানে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও পুকুর ডুবে গিয়ে লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শেখেরখীলের ১নং থেকে ৯নং ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রতিটি এলাকা থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন।
*বিদ্যুৎ ও সড়ক সংকট*
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবন আরও বিপর্যস্ত। ২৪ ঘণ্টা অতিক্রম হলেও বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, “এটা বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুতের একটি ট্র্যাডিশনাল অভ্যাস।”
একইসাথে শেখেরখীল রাস্তার মাথা থেকে মৌলভীবাজার পর্যন্ত সড়কটির অবস্থাও নাজুক। প্রতি ৩০-৪০ গজ পরপর বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল বন্ধের উপক্রম।
এলাকাবাসীর মতে, *”পানি নিষ্কাশনই শেখেরখীলের একমাত্র ও স্থায়ী দুঃখ।*
এমতাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ, দ্রুত পানি নিষ্কাশন, সড়ক সংস্কার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন শেখেরখীল ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণ।