
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
করিমগঞ্জ, ১১ জুলাই ২০২৬: সমাজ থেকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় দূর করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করিমগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্যোগে এক বিশেষ কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) আয়োজিত এ সভায় এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশ-জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত বক্তারা বলেন, সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; এর জন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতন ভূমিকা অপরিহার্য।
সভায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজের ভবিষ্যৎকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। এ কারণে মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। করিমগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে পুনরায় জানানো হয়, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান সম্পূর্ণ “জিরো টলারেন্স” এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
এছাড়া মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা মনে করেন, যথাসময়ে পারিবারিক সহায়তা ও সামাজিক সহযোগিতা পেলে অনেক মাদকাসক্তই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হবেন।
সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, ইভটিজিং এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল আরও জোরদার করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় রাত্রিকালীন পাহারা জোরদার করার বিষয়েও মতামত উঠে আসে।
বক্তারা আরও বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থাকতে হবে। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানালে অপরাধ দমনে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।
সভায় সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশি সেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। জানানো হয়, কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর শরণাপন্ন না হয়ে প্রয়োজনে সরাসরি অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অথবা সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর আইনি সহায়তা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সভা শেষে উপস্থিত সবাই মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। করিমগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও জনগণের সঙ্গে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।